কাজুবাদামের রফতানি খাতকে চাঙ্গা করতে চলতি মৌসুমে পণ্যটির উচ্চাভিলাষী উৎপাদন লক্ষ্য হাতে নিয়েছিল নাইজেরিয়া সরকার। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী এ লক্ষ্য পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে চলতি বছর নাইজেরিয়ায় কাজুবাদাম উৎপাদন লক্ষ্যের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে থাকতে পারে। খবর ক্যাশুইনফোডটকম।

ন্যাশনাল ক্যাশু অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়ার (এনসিএএন) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে নাইজেরিয়ায় সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টন কাজুবাদাম উৎপাদন হয়েছিল। রেকর্ড উৎপাদনের পর আশাবাদী হয়ে ওঠেন নাইজেরীয় কাজুচাষীরা। এর জের ধরে প্রতিষ্ঠানটি চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন কাজুবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়ার কথা এক লাখ টন।

তবে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী এসে সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। মহামারী ও লকডাউনের কারণে ব্যাহত হয়েছে কাজুবাদাম উৎপাদন। এর জের ধরে এবারের মৌসুমে নাইজেরিয়ায় কাজুবাদাম উৎপাদন তিন লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে মৌসুম শেষে দেশটিতে কাজুবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে।

নাইজেরিয়ায় মূলত ফেব্রুয়ারি-জুন সময়ের মধ্যে বাগান থেকে কাজুবাদাম সংগ্রহ করা হয়। এরপর বছরজুড়ে এসব কাজুবাদাম অপরিশোধিত অবস্থায় কিংবা প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার ও রফতানি করা হয়। এবার ফেব্রুয়ারি-জুন সময়ে দেশটিতে করোনা মহামারী চরম আকার ধারণ করেছিল। সংক্রমণ এড়াতে লকডাউন, শ্রমিক সংকট দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিকোস নাইজেরিয়া লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওজো আজানাকু বলেন, রফতানি খাতকে চাঙ্গা করতে অজ্বালানি পণ্য হিসেবে কাজুবাদাম খাতে জোর দেয়া হয়েছিল। আশা করা হচ্ছিল, এবারের মৌসুমে উৎপাদন সাড়ে তিন লাখ টনে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে পণ্যটির রফতানিও বাড়ানো যাবে। তবে করোনা মহামারী পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। মৌসুম শেষে উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ না হলে নাইজেরিয়া থেকে কাজুবাদাম রফতানিও খুব একটা বাড়বে না।

তবে চলতি মৌসুমে লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৫ সাল নাগাদ এক মৌসুমে নাইজেরিয়ায় পাঁচ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রেখেছে এনসিএএন।