ভারতের বৃহত্তম আইফোন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করেছে দেশটির অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী টাটা। টেক জায়ান্ট অ্যাপলের ডিভাইসটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও চীন থেকে সরার নীতির কারণে এ সুবিধা পাচ্ছে টাটা। সঙ্গে রয়েছে দেশটির ভতুর্কি নীতির সুবিধা।

সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে ডিএনএ এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ তামিলনাড়ু রাজ্যের হোসুর এলাকায় কারখানাটি নির্মাণ করতে চায় টাটা। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ২০টি অ্যাসেম্বলি লাইন ও দুই বছরের মধ্যে ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগ।

এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কারখানাটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অ্যাপলের এক মুখপাত্র। অন্যদিকে টাটাও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

বলা হচ্ছে, এ উদ্যোগ টাটার সঙ্গে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অ্যাপলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থানীয়করণের প্রচেষ্টাকে জোরদার করবে। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী কর্ণাটক রাজ্যে অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করছে উইস্ট্রন করপোরেশন।

এর আগে চীনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে অ্যাসেম্বলি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের কাজ করছে অ্যাপেল।

লবণ থেকে সফটওয়্যার বিস্তৃত পরিসরে টাটার বিনিয়োগ রয়েছে। এখন অ্যাপলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ব্যবসার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে যাচ্ছে। হোসুরের বিদ্যমান কারখানায় তারা আইফোন ঘের বা মেটাল ক্যাসিং তৈরি করে। টাটা আরো বলেছে, অ্যাপল পণ্যকে কেন্দ্র করে ভারতে ১০০টি খুচরা দোকান চালু করবে। এরই মধ্যে দেশটিতে অ্যাপল দুটি দোকান খুলেছে ও আরো তিনটির পরিকল্পনা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত ভর্তুকি সুবিধা অ্যাপলের প্রধান সরবরাহকারী তাইওয়ানের ফক্সকন টেকনোলজি গ্রুপ ও পেগাট্রন করপোরেশনকে ভারতে আসতে উৎসাহিত করেছে। যা অ্যাপলকে গত অর্থবছরে ভারতে ৭০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আইফোন অ্যাসেম্বলি করতে সাহায্য করেছিল। ডিভাইসের উৎপাদনে দেশটির হিস্যা বাড়িয়ে করে প্রায় ৭ শতাংশ। বাকিগুলো চীনে অ্যাসেম্বলি করেছে অ্যাপেল, কয়েক বছর আগেও যেখানে সব পণ্য তৈরি হতো।

বৈশ্বিক হিসাবে নতুন প্ল্যান্টটি আইফোনের জন্য মাঝারি আকারে কারখানা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপল ও টাটা নতুন কারখানায় ভর্তুকি সুবিধা পেতে সরকারকে অনুরোধ করবে।