তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বড় বাজার এশিয়া। সম্প্রতি এ অঞ্চলে করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে এলএনজির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতেও এশিয়ায় এলএনজি আমদানি জোরদার হচ্ছে। চলতি মাসে জ্বালানি পণ্যটি আমদানির পরিমাণ মাসভিত্তিক হিসাবে বাড়বে বলে জানিয়েছে জ্বালানি পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চারটি এলএনজি ক্রেতা দেশই এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। রেফিনিটিভ ও সংশ্লিষ্ট বন্দরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এশিয়া অঞ্চলে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বেড়ে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টনে দাঁড়াবে। বন্দর থেকে খালাসকৃত, খালাসের অপেক্ষায় থাকা এবং যেসব পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরের কাছাকাছি আছে, সেগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করে বিষয়টি জানিয়েছে রেফিনিটিভ।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ক্রয়াদেশ পাওয়া সব এলএনজিবাহী কার্গো মে মাসের শেষ নাগাদ বন্দরে পৌঁছবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মূলত ঠিক সময়ে কার্গোগুলো বন্দরে ভিড়লেই মাসভিত্তিক আমদানির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। তবে সর্বশেষ হিসাব বলছে, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। গত মাসে এশিয়া অঞ্চলে ২ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল। বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসে এ অঞ্চলে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করা হয়। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মাসে আমদানি বাড়বে ৮৪ লাখ ১০ হাজার টন।
এ বছর ভারতে করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে দেশটির এলএনজি আমদানির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে অভাবনীয়। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ভারতের এলএনজি আদমানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০ লাখ ১০ হাজার টনে। গত মাসের তুলনায় আমদানি বাড়বে দেড় লাখ টন। এপ্রিলে দেশটির আমদানির পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার টন। এছাড়া চলতি মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও আমদানি বাড়বে। ওই বছরের মে মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার।
বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ জাপান। করোনাভাইরাসের নতুন ধাক্কায় বিপর্যস্ত এ দেশটিও। তবে মহামারীতে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেও দেশটির এলএনজি আমদানি মাসভিত্তিক হিসাবে বেড়েছে। চলতি মাসে দেশটির মোট এলএনজি আমদানির পরিমাণ গত মাসের তুলনায় বেড়ে ৫২ লাখ ৯০ টনে দাঁড়াবে। এপ্রিলে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫১ লাখ ৪০ হাজার টন। এছাড়া গত বছরের মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে আমদানি বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮ লাখ ২০ হাজার টনে।
এদিকে জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করতে চীন অন্যান্য সময়ের তুলনায় এলএনজি আদমানি বাড়িয়েছে। ফলে আমদানি জোরদার হওয়া সত্ত্বেও চীনের কাছে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারকের খেতাব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান।
চলতি মাসে চীনের এলএনজি আমদানি গত মাসের তুলনায় বেড়ে ৭৪ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছবে। গত মাসে আমদানি করা হয় ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টন। গত বছরের মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ওই মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টন।










