ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির চাপে কষ্টে আছে মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর এর প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না মূল্যস্ফীতি। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। এমনকি অন্যান্য নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হারসংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় এ কথা জানান বক্তারা।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় অন্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও কার্যক্রম বিভাগের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ মুহূর্তে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থবছরে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য নীতি যেমন সুদ হার, বিনিময় হার নির্ধারণে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পণ্য উৎপাদনকারীরা যাতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিও খেয়াল রাখা। এক্ষেত্রে সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি যাতে ঠিক থাকে আবার মূল্যস্ফীতিও যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যাতে ঠিক থাকে, সেজন্য এসব পণ্যের আমদানি নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। সামনের অর্থবছরে আমদানি নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে। নির্বাচনের জন্য অনেক নীতি পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। সরকার মনে করছে এতে করে তারা আট-নয় মাসের মতো পিছিয়ে আছে।’
সামনের অর্থবছরের শেষের দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে সভায় উঠে এসেছে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও কিছুটা সংকোচনমূলক নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাতে করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হয়। এক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরের বাজেট ৮ লাখ কোটি টাকার মতো হতে পারে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।










