আবুধাবি ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সবুজ হাইড্রোজেন সরবরাহ চেইন তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মাসদার। কপ-২৮ সম্মেলনে ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এ চুক্তি করা হয়। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

আবুধাবিভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লিন এনার্জি প্রতিষ্ঠানগুলো আমস্টারডাম পোর্ট, স্কাইএনআরজি, ইভোস আমস্টারডাম ও জেনিথ এনার্জি টার্মিনালের সঙ্গে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ডাচ ও ইউরোপীয় বাজারে সবুজ হাইড্রোজেন সরবরাহ চেইন তৈরি হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প ও উন্নতপ্রযুক্তি মন্ত্রী ডক্টর সুলতান আহমেদ আল জাবের, কপ-২৮-এর সভাপতি, মাসদারের চেয়ারম্যান ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী ওয়াপকে হোয়েকস্ট্রার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ডক্টর আল জাবের বলেন, ‘চুক্তিটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এটি শূন্য কার্বন নিঃসরণের সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল লক্ষ্য উদীয়মান সবুজ হাইড্রোজেন অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করা। আমস্টারডাম বন্দর ও সবুজ হাইড্রোজেনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ অংশীদারত্ব আবুধাবিকে সবুজ হাইড্রোজেন উন্নয়নের মূল কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান করতে সাহায্য করবে।’

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হোয়েকস্ট্রা বলেন, ‘‌নেদারল্যান্ডস সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভবিষ্যতের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে সবুজ হাইড্রোজেন করিডোর বিকাশে আগ্রহী। আমাদের দেশ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় বাজারের জন্য একটি হাইড্রোজেন কেন্দ্র হওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং আমরা আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে আগ্রহী।’

সমঝোতা স্মারকের অধীনে আবুধাবিতে উৎপাদিত সবুজ হাইড্রোজেন আমস্টারডাম বন্দরের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসে রফতানি এবং মূল ইউরোপীয় খাতগুলোয় বণ্টন করা হবে। যেমন টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি, ইস্পাত কারখানা, শিপিং ও নতুন আরো কিছু খাতে সরবরাহ করা হবে।

চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক তরল হাইড্রোজেন পরিবহন পদ্ধতি বের করবে এবং তারা তরল হাইড্রোজেনের ওপর ফোকাস করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম বন্দরের অপারেটর পোর্ট অব আমস্টারডাম সবুজ হাইড্রোজেনের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং বাণিজ্যিক দলগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করবে। যেমন স্কাইএনআরজি, জেনিথ এনার্জি টার্মিনাল ও ইভোস আমস্টারডামসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান।

এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মাসদার তার নতুন শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো এবং সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবসায়িক ইউনিট ঘোষণা করেছে। এর লক্ষ্য ১০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষমতা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০ লাখ টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন।

সবুজ হাইড্রোজেন বায়ু বা সোলারের মতো নবায়নযোগ্য থেকে সবুজ বিদ্যুতের সাহায্যে উৎপাদন হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ইলেকট্রোলাইসিসের মাধ্যমে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আলাদা করে। ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি জানায়, হাইড্রোজেন নেট-জিরো এনার্জি সিস্টেমের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি ডিকার্বনাইজিং সেক্টরে (ভারী শিল্প ও দীর্ঘ দূরত্বের পরিবহন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।