চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ সময় বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করায় এমন ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে সামনের মাসগুলোয় আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আহরণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে জানিয়েছে হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কর্তৃপক্ষ।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ২০২১-২২ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বিপরীতে আগস্টে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে বন্দরের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ মাসে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টি নির্ভর করে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর। পণ্য আমদানি বা রফতানি বাড়লে রাজস্ব আহরণ বাড়বে আর পণ্য আমদানি-রফতানি কমলে রাজস্ব আহরণ কমবে।

তিনি জানান, অর্থবছরের প্রথম দিকে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা পুনর্নির্ধারণ করায় লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে প্রথম প্রান্তিক শেষে পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। প্রথম পর্যায়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল গত বছরের আদায়ের ওপর। পরবর্তী সময়ে রংপুর কমিশনারেট সারা দেশের মধ্যে রাজস্ব আহরণে প্রথম হওয়ায় পরে আবারো কমিশনারেটের ওপর ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। বাড়তি সেই লক্ষ্যমাত্রা হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের ওপরেও নির্ধারণ করা হয়। যেহেতু লক্ষ্যমাত্রা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সেবা সহজীকরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমদানীকৃত পণ্যের পরীক্ষণ ও শুল্কায়নসহ খালাস কার্যক্রম সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে করে দেশের অন্যান্য বন্দরের চেয়ে হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারে আমদানিকারকরা উৎসাহিত হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নুরুল আলম খান বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের ফলে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এছাড়া উপকমিশনার মহোদয় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরো সহজীকরণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি আমদানীকৃত পণ্য দ্রুত পরীক্ষণ, শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের সব তথ্য দ্রুত ও সহজে প্রাপ্তির লক্ষ্যে নতুন সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এছাড়া হিলি বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে কোনো সিআ্য্যন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সে মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি।