চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও ও অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফারেল ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে অংশ নেন। খবর এপি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ, রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান ওয়াং ওয়েনতাও। জবাবে শিগগিরই বেইজিং যাবেন বলে জানান ডন ফারেল।
জানা গেছে, বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চীনের দেয়া সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বাধাগুলো তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যেগুলোর কারণে অস্ট্রেলীয় রফতানিকারকদের বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্থনি আলবানিজ নির্বাচিত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ একটু একটু করে গলতে শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ তার দেশের ওয়াইন, কয়লা, গরুর মাংস, সিফুড, বার্লি ও কাঠের ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে দেয়া এক বিবৃতিতে ডন ফারেল বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার যে পণ্যগুলোর বিষয়ে চীনের নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেন চীনের ভোক্তারা সহজেই উন্নতমানের অস্ট্রেলীয় পণ্য পেতে পারেন।’
বিবৃতিতে ফারেল আরো বলেন, ‘আমি চীনের মন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। আরো কার্যকর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য শিগগিরই আমি চীন সফরে যাব।’
দুই দেশের মন্ত্রীই সরকারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হয়েছেন। যার মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যে পুরোদমে বাণিজ্য শুরু হবে।
অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সংকটের শুরু ২০২০ সালে। সে সময় নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তির বিষয়ে চীনকে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেল তৎকালীন মরিসন সরকার। চীন ধরে নেয়, মহামারীর দায় তাদের ওপর দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে চীন অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা, বার্লি, ওয়াইন, গরুর মাংসসহ বেশকিছু পণ্যের রফতানিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।










