যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের ভোক্তারা অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেপি মরগান চেজ, সিটিগ্রুপ, ওয়েলস ফার্গো ও বিএনওয়াই মেলন। সেখানে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন বার্তা দেয় ব্যাংকগুলো। খবর এপি।
এমন সময় ব্যাংকগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো সেসব মানুষের বিষয়ে আলোকপাত করেছে, যারা উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগছে এবং যাদের সঞ্চয় খুবই কম। কভিড-১৯ মহামারীর সময় সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি এসব ভোক্তাকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে সহায়তা করেছিল। এসব ভোক্তা এখন অর্থ সংকটে রয়েছে, যার প্রভাব নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের হালনাগাদ জরিপে বলা হয়েছে, ভোক্তাদের আস্থা এখনো তলানিতে রয়েছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ক্রেডিট বিজনেসে সিটিগ্রুপের মুনাফা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমে গেছে। এ ব্যাংকের আর্থিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা (সিএফও) মার্ক মাসন বলেন, ‘সার্বিকভাবে ভোক্তাদের খরচ কমে গেছে। তাদের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ কভিড মহামারীর আগের তুলনায় কম।
মার্ক মাসন বলেন, ‘সর্বশেষ প্রান্তিকে ভোক্তাদের খরচের যে প্রবণতা আমরা পেয়েছি, তা আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) চেয়ে কম।’
জেপি মরগানের আর্থিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা (সিএফও) জেরেমি বারনুম বলেন, ‘সার্বিকভাবে ভোক্তাদের অবস্থা ভালো। কিন্তু কম আয়ের ভোক্তাদের অবস্থা তুলনামূলক বেশি দুর্বল। নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, তারা খুব জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য কিছু খুব একটা কিনছে না। এটা তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।’
বিএনওয়াইয়ের প্রধান নির্বাহতী কর্মকর্তা রবিন ভিনস বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি অনেকের জন্য; বিশেষ করে যাদের কোনো সঞ্চয় নেই, তাদের জন্য একটা যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনি প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখতে পাবেন, সমাজের একটি অংশের হাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মতো কোনো অর্থ নেই।
তাদের যা সঞ্চয় ছিল, তা কভিড মহামারীর সময় নিঃশেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় এখন তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হয়েছে।’
নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে গত সপ্তাহে পেপসিকোর প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ায় উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে তাদের বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টানা কয়েক প্রান্তিক ধরে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহারের দ্বৈরথে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র, যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ক্ষয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি সম্প্রতি দেশটিতে বেকারত্বের হারও বেড়েছে। তবে সেপ্টেম্বর নাগাদ সুদহারে কাটছাঁটের আশা করা হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতেও পারে।










