সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গোখাদ্য আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অন্তত তিন-চার গুণ বেশি আমদানি হয়েছে। এসব খাদ্যের মধ্যে রয়েছে গমের ভুসি ও সরিষার খৈল।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে খামারিরা গরু মোটাতাজা করছেন। এতে সম্প্রতি গোখাদ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার বেশি গোখাদ্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে গমের ভুসি ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৬৫ টন। আমদানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯০০ কোটি ২১ লাখ টাকা। সরিষার খৈল আমদানি হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৯ টন, যার মূল্য ১২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত গমের ভুসি আমদানি হয় ৮৮ হাজার ৮৮৩ টন। এসবের আমদানি মূল্য ছিল ২৪৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সরিষার খৈল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫২০ টন। আমদানি মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে সরিষার খৈল আমদানি প্রায় সাত গুণ এবং গমের ভুসি আমদানি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানমুন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. জালাল উদ্দিন জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। প্রতি মাসে ২৫০-৩০০ ট্রাক আমদানি হচ্ছে গমের ভুসি ও সষিরার খৈল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে এসব গোখাদ্য।
সম্প্রতি বাজারে গোখাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে গবাদি পশুপালন বেড়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা গরু মোটাতাজার জন্য গমের ভুসি ও খৈল ব্যবহার করছেন।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দহকুলা বাজারের খৈল-ভুসি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খুচরা বাজারে খৈল ও ভুসির দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি গমের ভুসি ৫৪-৫৫ টাকা এবং খৈল কেজিপ্রতি ৪৫-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ভুসিতে আমদানি খরচ পড়ছে ৪৫-৪৬ টাকা। প্রতি কেজি সরিষার খৈল আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৩৭-৩৮ টাকা।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘সম্প্রতি গমের ভুসি ও খৈল আমদানি বেড়েছে এ বন্দর দিয়ে। তবে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আয়ে এটি কোনো প্রভাব রাখেনি। কারণ গোখাদ্য আমদানিতে সরকারের কোনো রাজস্ব আয় হয় না।’










