চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় বিলাসবহুল বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) ক্রয়াদেশ কমেছে ইভি নির্মাতা লুসিড গ্রুপের। আংশিকভাবে ইভির ক্রয়াদেশ বাতিল এবং ক্রয়াদেশের পর গাড়ি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার শঙ্কায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবরে পুঁজিবাজারে সংস্থাটির শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুসিড জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৩৪ হাজারের বেশি ইভির ক্রয়াদেশ পেয়েছে লুসিড। এ সময়ে ১ হাজার ৩৯৮ ইউনিট গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ক্রয়াদেশ ৩ হাজার কমেছে এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণে পূর্বের কিছু ক্রয়াদেশ বাতিলও হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, তাদের কাছে বর্তমানে ৩৮৫ কোটি ডলার নগদ অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে আগামী বছরের চতুর্থ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।

নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএফআরএর গবেষক গ্যারেট নেলসন বলেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষতির কারণে লুসিড গ্রুপের ইভির ক্রয়াদেশও কমেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের পরিমাণও কমছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমাতেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক সাক্ষাত্কারে লুসিড গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শেরি হাউজ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, লুসিড নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছে। সৌদি আরবে একটি ইভি কারখানা স্থাপন করতেও ইচ্ছুক লুসিড।

লুসিড জানায়, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হবে। পরে এটি মোট মূলধনের সঙ্গে যোগ করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইভি ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহূত কাঁচামাল লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের দাম বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে ইভি বাজারের মুনাফাও কমেছে।

তৃতীয় প্রান্তিতে ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার আয় করেছে লুসিড। তবে এ সময়ে সংস্থাটির লোকসান বেড়ে ৬৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

লুসিড গ্রুপের মোট শেয়ারের ৬১ শতাংশের মালিকানা রয়েছে সৌদি আরবের সার্বভৌম তহবিলের হাতে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যৌথ উদ্যোগে অ্যাপলের সরবরাহকারী ফক্সকন এবং সৌদি সরকার সৌদিতে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন তৈরি করবে। এ যৌথ উদ্যোগের নাম রাখা হয়েছে সিয়ের।