লোহিত সাগরে সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলবাহী কার্গো সুয়েজ খাল এড়িয়ে চলছে। জাহাজগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপ-আফ্রিকার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। এ দুই মহাদেশে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমেছে। খবর রয়টার্স।
সুয়েজ খাল এড়ানোর ফলে ইউরোপ-আফ্রিকায় জ্বালানি তেল সরবরাহে বিভ্রাট ঘটেছে। পাশাপাশি চীনে এর চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় ইউরোপ ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম দুই মাসের মধ্যে শুক্রবার সবচেয়ে অস্থিতিশীলতার মধ্যে পার করেছে। এদিন বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রয়প্রবণতা দেখা গেছে তুলনামূলক বেশি (বুলিশ)।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর কারণ ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ অভিযান। এ অভিযানের ফলে লোহিত সাগর এড়িয়ে অন্য রুট ব্যবহার করছে জাহাজগুলো।
জাহাজের তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কেপলারের লিড ক্রুড অ্যানালিস্ট ভিক্টর কটোনা বলেছেন, ‘লোহিত সাগরে সংঘাতে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ব্রেন্টে। তাহলে কে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? নিঃসন্দেহে ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বাজারে এখন ফ্রন্ট মান্থ কন্ট্রাক্ট বা আগামী মাসে সরবরাহ চুক্তিতে জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাস পরে সরবরাহের চুক্তির তুলনায় ২ ডলার ১৫ সেন্টের চেয়ে বেশি।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাকওয়ার্ডেশন বলে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্ধারিত পণ্যের বর্তমান দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে দাম কমে যায়। ব্রেন্টের ব্যাকওয়ার্ডেশনের কারণ সরবরাহ কমে যাওয়া। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড মার্কেট চলতি সপ্তাহে ব্যাকওয়ার্ডেশনে পড়েছে। এখানেও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্রেন্টের মার্কেট অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
জ্বালানি তেলের অন্যান্য বাজার আদর্শ নর্থ সি ও ফর্টিসের দামের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এগুলোকে ছাড়িয়ে গত নভেম্বরের পর ব্রেন্টের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যান্য গ্রেডের জ্বালানি তেলকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রুডের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেসব স্থানীয় জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিকল্প হিসেবে পরিচিত নরওয়ের ইয়োহান সিড্রাপ ক্রুডের দামে গত ডিসেম্বর থেকে উল্লম্ফন ঘটেছে, যা জানুয়ারিতে আরো বেড়েছে। এ ব্রেন্ট বর্তমানে ২ দশমিক ৮০ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে। লোহিত সাগরে সংঘাতের আগে ব্রেন্টটিতে ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি ছাড় পাওয়া যেত।
বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ইয়োহান সিড্রাপের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দামও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ইউরোপে রফতানি কমে গেছে। কেপলারের তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে রফতানির পরিমাণ অক্টোবরে ১০ লাখ ৭০ হাজার বিপিডি (ব্যারেল পার ডে) থেকে ডিসেম্বরে প্রায় অর্ধেক কমে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার বিপিডি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের উৎস দুবাই, ওমান ও মারবানের গড় স্পট প্রিমিয়াম আবার বেড়েছে।










