চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীনের অর্থনীতি। আগামী মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি উপাত্তে তা উঠে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

কঠোর কভিড-নীতি থেকে বেরিয়ে আসছে চীন। এতে চলতি বছরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতি। মঙ্গলবার প্রথম প্রান্তিকের উপাত্ত প্রকাশ করতে যাচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিটি। সেখানে স্পষ্ট হবে কেমন পুনরুদ্ধার হলো দেশটির অর্থনীতি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রাক্কলন, জানুয়ারি-মার্চে চীনের গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। 

ঋণভারে জর্জরিত আবাসন খাত থেকে শুরু করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দার ঝুঁকি চীনের শঙ্কার কারণ হিসেবে হাজির রয়েছে। ভোক্তা আস্থা দুর্বল থাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় নেবে বলে মনে করেন বিনিয়োগ ব্যাংক ম্যাককোয়ারির মুখ্য চায়না ইকোনমিস্ট ল্যারি হু। 

গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা দেশটির কয়েক দশকের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। চলতি বছরে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় উদ্বেগের বিষয় আবাসন খাত। অবশ্য গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনের আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর আগে টানা চার মাস সংকোচনের মধ্য দিয়ে গেছে খাতটি। তবে প্রায় ৬০ শতাংশ শহুরে পরিবার বিনিয়োগ বা ব্যয়ের চেয়ে সঞ্চয়ে মনোযোগ দিয়েছে। 

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি বছরে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা চীনের। ঠিকভাবে কাজ না করলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন ঠেকবে, এমন সতর্ক বাণী দিয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

এক্ষেত্রে চীনের জন্য আশাবাদের জায়গা এর ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য। গত সপ্তাহে চীনের শুল্ক বিভাগ প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য হয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে চীনের রফতানি বছরওয়ারি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমদানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান স্পর্শ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন, ৫৪ হাজার ৬৪১ কোটি ও ৫২ হাজার ৮৪৬ কোটি ইউয়ান। 

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইয়ের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে গত প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এ দেশগুলোর সঙ্গে।

চীনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, উন্নত অর্থনীতি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালাব। গত বছর প্রায় অর্ধ শতাব্দীর সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পর ২০২৩ সালে ঘুরে দাঁড়াতে চায় চীন। চলতি বছরে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি। ২০২২ সালে যেখানে দেশটির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৩ শতাংশ। 

১৯৭৬ সালে মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর বছরে ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ২০২২ সালে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি দেখল চীন। ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর করোনা বিপর্যয়ের ২০২০ সালের উপাত্ত বাদ দেয়া হয়েছে।

২০২২ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করেছিল বেইজিং। কিন্তু সরকারের জিরো কভিড নীতি, শিল্পোৎপাদন খাতে শ্লথগতি ও ভোক্তা ব্যয় হ্রাসের ফলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে। গত বছরের প্রথমার্ধে অর্থনীতিতে গতিশীলতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ধুঁকেছে চীনের অর্থনীতি। অভ্যন্তরীণ করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি মাথাব্যথার কারণ হিসেবে ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তার ফলে সৃষ্ট সরবরাহ চেইন সংকট।