দুদিন বাড়ার পর ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্লথগতির আশঙ্কায় জ্বালানি চাহিদা হ্রাস হতে পারে এ সম্ভাবনায় গতকাল জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ অপরিশোধিত ব্রেন্টের দাম ৬৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের চেয়ে যা ৬৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মজুদ লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি পেতে জটিলতায় ইউরোপের দেশগুলোতে মূলত এ জ্বালানি তেল যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় চলতি প্রান্তিকে খুচরা দাম আরো কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের নতুন মহাসচিব হাইতাম আল ঘাইস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ওপেক দায়ী নয় বরং নীতিনির্ধারক, আইনপ্রণেতা এবং তেল ও গ্যাস খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ দায়ী।
রাশিয়াসহ ওপেক প্লাস হিসেবে পরিচিত জোটটি ৫ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ফিউচার মার্কেটে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত জুলাইয়ের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি, লিবিয়ায় ফের জ্বালানি তেল উত্তোলন শুরু হওয়া এবং রাশিয়া ও ইরানের অব্যাহত রফতানিতে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন সচল হয়েছে।
ইউরোপীয় ক্রেতারা রুশ জ্বালানি তেলের বিকল্প অনুসন্ধান শুরু করলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার জ্বালানি তেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই এক প্রতিবেদনে জানায়, আমাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার বিকল্প উৎস থেকে সংস্থান করতে চাইলে দিনপ্রতি ১২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল লাগবে ইইউর।
এদিকে ওপেকের মহাসচিব হাইতাম আল ঘাইস জানান, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে তেল উত্তোলন সমন্বয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওপেক ও রাশিয়া নেতৃত্বাধীন মিত্ররা। বছরের শেষের দিকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল সরবরাহ কমাতে পশ্চিমা দাবি সত্ত্বেও মস্কোকে ত্যাগ করছে না ওপেক।
আল ঘাইস বলেন, আমরা রাশিয়া ও অন্যান্য ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্প্রসারণে আগ্রহী। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা কল্পনাও করতে পারি না।
চলতি মাসে ওপেকের মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়া আল ঘাইস বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বিকল্প সংস্থান এত সহজ নয়। রাশিয়ার উত্তোলন হ্রাস ভোক্তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানি তেল উত্তোলন কয়েক মাস কিছুটা কমলেও এশীয় ক্রেতাদের চাহিদার ওপর দাঁড়িয়ে সম্প্রতি উত্তোলন বাড়িয়ে দিয়েছে।










