বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে চীন। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক নিলামে টানা ছয়বারের মতো দুগ্ধপণ্যের দরপতন অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডে গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে পণ্যটির মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। এপ্রিলের দ্বিতীয় নিলাম থেকে নিম্নমুখী এ ধারা অব্যাহত আছে। তবে গত মৌসুমের তুলনায় দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ।

নিউজিল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্টাফ জানায়, করোনা মহামারীর পর থেকে জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সচেষ্ট চীনের সরকার। দেশটি সরবরাহ বাড়ানোয় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এদিকে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে ব্যবসায়ীরা নিলামে দাম হাঁকছেন না। ফলে ধারাবাহিকভাবে নিলামে দাম কমছে।

প্রতি মাসে দুবার বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৩২০ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৪ হাজার ২৭৮ টন। নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৯২৪ ডলার। এবারের নিলামে ১৭৬ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৮ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।

আইরিশ ফার্মারস জার্নাল জানায়, ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধকে (ডব্লিউএমপি) জিডিটি নিলামের প্রধান পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূল্যসূচকের পতনে মূল ভূমিকা রেখেছে এটি। সর্বশেষ নিলামে ডব্লিউএমপির দাম ৩ শতাংশ কমেছে। পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৮৬৪ ডলার পর্যন্ত।

বিশ্বের প্রসিদ্ধ দুগ্ধপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান লেকল্যান্ড, গ্ল্যানবিয়া, কেরব্যারি ও ক্যারি মে মাসে তাদের দুগ্ধপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় সাড়া দিতে না পারায় পণ্যটির দাম বেড়েছে বলে জানায় এসব প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এশিয়ার বাজারে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের দাম বলিষ্ঠ রেখেছে।

এদিকে নিলামে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ১২৬ ডলার পর্যন্ত নেমেছে। প্রতি টন মাখন ৪ হাজার ৬১২ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা এর আগের নিলামের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের নিলামে নিম্নমুখী ছিল অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট, চেডার পনিরের দাম। তবে ল্যাকটোজের দামে উত্থান-পতন লক্ষ করা যায়নি। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৫ হাজার ৬৩২ ডলারে নেমেছে। ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন চেডার পনির বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৯ ডলারে। এছাড়া ল্যাকটোজ এর আগের নিলামের মতোই প্রতি টন ১ হাজার ২৩৮ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

ওয়েস্টপ্যাক ইন্ডাস্ট্রির অর্থনীতিবিদ পল ক্লার্ক বলেন, নিলামে ধারাবাহিক দরপতন গত মৌসুমে দুগ্ধপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ইংগিত দিচ্ছে। আগামী মৌসুমেও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্টাফ জানায়, চলতি বছরের মে মাসে দুগ্ধপণ্যের উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। মে মাসে শেষ হওয়া মৌসুমে সব মিলিয়ে দুগ্ধপণ্য উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।