মার্কিন বহুজাতিক প্রসাধন কোম্পানি এস্টি লডার। চীনের লকডাউনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে প্রসাধন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর নিম্নমুখী রয়েছে। চীনে বড় ধরনের বাজার রয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির। এখানের বিক্রয়ের ওপর অনেকাংশেই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ-লোকসান নির্ভর করে। কিন্তু মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে বেইজিংয়ের জিরো কভিড নীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সংস্থাগুলো। কারণ কভিড সম্পর্কিত কঠোরতা লাখ লাখ লোককে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য করছে। খবর এপি।

সম্প্রতি মার্কিন বহুজাতিক প্রসাধন কোম্পানিটি বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়ে শেয়ারপ্রতি ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৪০-এর মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছে। এর আগে সংস্থাটি ৭ ডলার ৩৯ সেন্ট থেকে ৭ ডলার ৫৪ সেন্ট মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিল। নতুন এ পূর্বাভাস ফ্যাক্টসেট সমীক্ষায় করা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস শেয়ারপ্রতি ৭ ডলার ৩৫ সেন্টের অনেক নিচে। এ খবরের পর সংস্থাটির শেয়ারদর ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে।

সব মিলিয়ে চীনের কঠোর ভাইরাস নীতির প্রভাব থেকে বড় কোম্পানিগুলোও রেহাই পায়নি। বুধবার চীনের অন্যতম শিল্প শহর ঝেংঝুতে ৬৪ জনের নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বাইরে থেকে প্রবেশ স্থগিত করা হয়। এরপর আইফোনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে এমন কারখানার কর্মীরা তাদের কারখানা ছেড়ে চলে যান।

সম্প্রতি নিজেদের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্টারবাকস। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে যে চীনের স্টোরগুলোর বিক্রয় ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গত মাসের শেষের দিকে চীনে তুলনামূলক বিক্রি হ্রাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফাস্ট ফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ড’সও। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রায় তিন মাস ধরে ৬ কোটি ৫০ লাখ বাসিন্দাসহ ৩৩টি শহরের সম্পূর্ণ বা আংশিক কভিড-১৯ লকডাউনে ছিল। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের বিক্রিতে পতন হয়েছে। এমন অবস্থায় চীন শিগগিরই বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে খবর ছড়িয়েছে, যা পুঁজিবাজারে শেয়ারদর চাঙ্গা করেছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বাজারজাত কৌশলের প্রধান স্টিফেন ইনেস বলেন, চীনের জিরো কভিড নীতিবিষয়ক আলোচনায় সোশ্যাল মিডিয়া এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের শক্তি স্পষ্ট হয়েছিল। তবে কিছু স্থানে কভিড-১৯ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঝুঁকিমুক্ত এলাকাগুলো ঘিরে জনসমাগম হচ্ছে।

এদিকে এস্টি লডার জানিয়েছে, চীনের নতুন কভিড বিধিনিষেধ ও ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা এ বছরের প্রথমার্ধে তাদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। নিউইয়র্কভিত্তিক কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ৩৫ সেন্ট বা মোট ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার মুনাফা পেয়েছে। জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের জরিপে বিশ্লেষকরা পুনর্গঠন খরচ অপসারণ করে শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ৩৭ সেন্ট মুনাফার কথা জানিয়েছিল।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এস্টি লডার শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ১৯ সেন্ট থেকে ১ ডলার ২৯ সেন্ট মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছে। জ্যাকস জরিপ অনুসারে, এ সময়ে শেয়ারপ্রতি ২ ডলার ৮৪ সেন্ট মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। সংস্থাটি এখনো দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।