২০২১ সালে নানা সংকট সত্ত্বেও শ্রীলংকার চা খাতে প্রবৃদ্ধি এসেছে। মূলত চা শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। খবর ইকোনমি নেক্সট।

শ্রীলংকার প্লান্টেশন-বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ পাথিরানা সম্প্রতি জানান, গত বছর দেশটিতে চা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সারের তীব্র সংকট সত্ত্বেও এ সময় দেশটিতে ৩০ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।

তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে রাসায়নিক সার ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে এসব সারকে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘোষণার পর পরই দেশটির চা খাতে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা ছিল রাসায়নিক সারের অভাবে চা উৎপাদন কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত সিলন চায়ের স্বাদসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এক বিবৃতিতে পাথিরানা বলেন, গত বছর নির্দিষ্টভাবে চা শিল্পে সমৃদ্ধি এসেছে। ২০২০ সালে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ২৭ কোটি ৯০ লাখ কেজি। তবে গত বছর সার সংকট থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন বেড়ে ৩০ কোটি ৫০ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক বেশি সারের ব্যবহার আসলে উৎপাদন বাড়ায় না। আমাদের দেশে স্পষ্টভাবে সারের অপব্যবহার হয়। যাতে উচ্চমাত্রার ফলন পাওয়া যায়, সেজন্য অর্গানিক সারের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। 

চলতি মৌসুমকে বৈরী হিসেবে উল্লেখ করে পাথিরানা বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই মৌসুম শেষ হবে। ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শুধু সার সংকটই নয়, গত বছর চা শ্রমিকদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকা। কাজের চাপ কমানো ও দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এমন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি এসেছে।

এদিকে শ্রীলংকার সরকার ভবিষ্যতে চা চাষে উৎসাহিত করতে বেশ কয়েকটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচি থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা দেয়া হবে।