বিশ্বব্যাপী আবাসন খাতে মন্দা কাটতে শুরু করেছে। প্রধান বাজারগুলোয় বাড়ির দাম চলতি বছরের শুরুতে যে হারে কমতে শুরু করেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে কম হারে কমছে। ২০২৪ সালে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি রয়টার্সের সম্পত্তি বিশ্লেষকদের জরিপে এমনটাই প্রকাশিত হয়েছে। খবর দ্য স্টেইটস টাইমস।

২০২৩ সালের আগে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন, ক্রমবর্ধমান মর্টগেজ হারের কারণে দাম কমতে পারে। তবে তাদের এ পূর্ভাবাস পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এক বছরের বেশি সময় ধরে সুদহার বৃদ্ধির কারণে মর্টগেজ হার সবাইকে খুব বেশি প্রভাবিত করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিক দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় শূন্য হারে সস্তা মর্টগেজ রেখেছিলেন, যা সরবরাহ ও আবাসন বাজারের কার্যকলাপকে সীমিত করেছে। কিন্তু এটি প্রথমবারের মতো বাড়ির ক্রেতাদের জন্য আরো খারাপ খবর। কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সংকটপূর্ণ সরবরাহে তারা বছরের পর বছর অপেক্ষায় ছিলেন। যখন পুরনো বাড়ির মালিকরা তাদের বাড়ির দাম বার্ষিক দ্বিগুণ হারে বাড়িয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক রয়টার্সের ভোটের ফলাফল অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দামে মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপটি হবে সুদহার কমানো।

নিউজিল্যান্ড ও কানাডায় বাড়ির মূল্য মহামারীর সময়ে ৪০-৫০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে ৫ শতাংশ পতনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ভারতে মহামারী আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। বাড়ির মূল্য আগামী দিনগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির আবাসন বাজারে ২০২৩ সালে মূল্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ব্রিটেনের আবাসন খাতে ২০২৪ সালে মূল্যবৃদ্ধি তেমন ঘটবে না।

প্রকৃতপক্ষে, অনকেই ধারণা করছিল, সুদহার শীর্ষে উঠে আসবে এবং ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে তা আবার নিচে নেমে আসবে। তবে বাজারে অপ্রত্যাশিত প্রাথমিক স্থিতিশীলতার চারপাশে ধারণার বেশির ভাগই স্তিমিত হয়েছে। নাইট ফ্রাঙ্কের গবেষণা প্রধান মিস্টার লিয়াম বেইলি বলেন, ‘সম্ভবত দুই মাস ধরে সর্বোচ্চ হারের পরিস্থিতির প্রভাবের চারপাশে একটু বেশি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। আমি মনে করি আমরা এখনো উচ্চ হারের সম্পূর্ণ প্রভাব অনুভব করিনি। ফিক্সড-রেট মর্টগেজের অর্থ হলো সম্পত্তির অনেক মালিককে এর প্রভাব থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। আমি মনে করি বাস্তবতা হলো আপনি কভিড-১৯ ও সাপ্লাই চেইন ব্যাঘাতের কারণে বেশির ভাগ বাজারে খুব কম সরবরাহ এবং হাউজ বিল্ডিং ভলিউম পেয়েছেন। বেশির ভাগ পশ্চিমা বাজারে বেশ শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে। মৌলিক বিষয় হলো শক্তিশালী চাহিদা দুর্বল সরবরাহ পূরণ করে।

মহামারীর আগে এটি এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী হাউজিং বাজারজুড়ে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মার্কিন বাড়ির গড় মূল্য স্থবির হয়ে পড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। মে ও মার্চের জরিপ অনুসারে, ২০২৩ সালের মান যথাক্রমে ২ দশমিক ৮ ও ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।