তিনি বলেন, ‘এ খাতের খেলাপি ঋণ ৩৫ শতাংশে উঠেছে। ফরেনসিক অডিট হলে হয়তো এ খেলাপির পরিমাণ আরো বাড়বে। বিপুল পরিমাণ এ খেলাপি ঋণ কোনো না কোনোভাবে নিরীক্ষক, সার্ভেয়ার, অ্যাসেসর বা আইনজীবীদের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। তাই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। আমরা যদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে পারি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন সম্ভব হবে।’

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সমন্বিত ডিজিটাল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম ‘ইউসিবি ওয়ান’ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘রোগাক্রান্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এর অনেকগুলো সমস্যা কাঠামোগত, কিছু সমস্যা নীতিগত সংকটের কারণে এবং তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে পূর্ববর্তী সরকারের স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি। এ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার পরিকল্পনা করছে। সরকার চায় প্রত্যেক নাগরিকের একটি করে ব্যাংক হিসাব থাকবে। এর মাধ্যমে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা দূর হবে। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

ব্যাংক খাতে তিনটি সংস্কার দরকার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক ও আস্থা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের চার্জের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ চার্জ কাঠামো যৌক্তিক করতে হবে, যাতে মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আগ্রহী হয়। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলো সরকার থেকে প্রণোদনা চায়, কিন্তু নিজেরা আমানতকারীদের জন্য তেমন প্রণোদনা দেয় না। আমানতের ক্ষেত্রেও উদ্ভাবনী প্রণোদনা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি পুনর্গঠন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ, আমাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ‘সুশাসন, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ফলে ইউসিবি গত দুই বছরে ক্রমাগত ভালো করছে। আগামীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নগদবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা জোরদার করতে আমরা কাজ করছি। কারণ, ডিজিটাল ব্যবস্থাই ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ। আজকের অ্যাপ উদ্বোধনও সে লক্ষ্যেই।’

ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘নতুন এ অ্যাপের মাধ্যমে সব সেবাকে একসঙ্গে যুক্ত করে গ্রাহকদের আরো উন্নত সেবা দিতে চাই। তরুণ ও প্রযুক্তি-সচেতন গ্রাহকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী হবে এবং দেশে নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অ্যাপের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ইউসিবি ওয়ান হলো ব্যাংকের নতুন সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম। গ্রাহকরা এক জায়গায় বসেই তাৎক্ষণিক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, কার্ড ব্যবস্থাপনা, কিউআর পেমেন্ট ও ন্যানো লোনসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পাবেন।’

তিনি আরো জানান, ব্যাংকিংয়ের বাইরে ইউসিবি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড, খাবার অর্ডার, পেমেন্ট, ভ্রমণ বুকিং, টিকিটিং সুবিধা এবং বিশেষ অফার উপভোগ করতে পারবেন। এসব ফিচার গ্রাহকদের সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ এবং যুগোপযোগী ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। অ্যাপটিতে থাকছে বায়োমেট্রিক সুবিধাও।