চট্টগ্রামে অবস্থিত কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসির রেডি-মিক্স কংক্রিট (আরএমসি) প্লান্টের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাঁচামাল সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টিসহ বেশ কয়েকটি কারণে কোম্পানির পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, চট্টগ্রামের দক্ষিণ পতেঙ্গার সি-বিচ রোডে কনফিডেন্স সিমেন্টের আরএমসি প্লান্ট অবস্থিত। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ লাখ ঘনফুট। ডলার সংকটে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা, রেডি-মিক্স ব্যবসার ওপর ভ্যাট আরোপের ফলে মূল্যবৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসির চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সমন্বিত আয় কমলেও কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির সমন্বিত আয় হয়েছে ১৮৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির আয় কমেছে ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৪৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। প্রধমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ২২ পয়সায়। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকা ২০ পয়সায়।
আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির সমন্বিত আয় হয়েছে ৯২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। আলোচ্য হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ জুন শেষে কনফিডেন্স সিমেন্টের সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৮৯ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭১ টাকা ৭৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া), আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫ টাকা ৮৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২২ শেষে সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭২ টাকা ২৬ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া), আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৭৩ টাকা ৮ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ টাকা ৮৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩৭ পয়সা।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯০টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫ দশমিক ৫০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত এক বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ারদর ৭১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










