চীনের শিল্পোৎপাদন প্রত্যাশার চেয়েও ধীরগতিতে বেড়েছে, যখন খুচরা বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। অক্টোবরের এ পরিসংখ্যান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি গতি হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘায়িত কভিডজনিত বিধিনিষেধ এবং রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। গত মাসে আবাসন খাতের বিনিয়োগ ৩২ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। অর্থনীতিতে এক-চতুর্থাংশ অবদান রাখা খাতটির সংকট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো গভীর হচ্ছে।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, চীনের অর্থনীতি জিরো-কভিড নীতি, রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে। বিধিনিষেধ শিথিল এবং আবাসন বাজারে আর্থিক সহায়তার মতো সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হিসেবে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, বেইজিংয়ের কঠোর কভিড নীতি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা অব্যাহত রাখবে।
গতকালের পরিসংখ্যানগুলো একটি দুর্বল অর্থনীতির দিকে ইঙ্গিত করার সর্বশেষ তথ্য। এর আগে রফতানিতে অপ্রত্যাশিত সংকোচন এবং নতুন ব্যাংকঋণ আশঙ্কার চেয়ে বেশি কমে যায়। সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্যও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা একটি নোটে বলেছেন, অক্টোবরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ধীর হয়েছে এবং বাজারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কভিড পরিস্থিতি অবনতির অংশ হিসেবে এ পরিসংখ্যান একটি দুর্বল চতুর্থ প্রান্তিক শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে শিল্পোৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও রয়টার্সের পূর্বাভাসে বিশ্লেষকরা ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ হার সেপ্টেম্বরের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়েও মন্থর।
এদিকে গত মাসে দেশটির খুচরা বিক্রি গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো নিম্নমুখী হয়েছে। সেসময় সাংহাই শহর লকডাউনের মধ্যে ছিল। গত মাসে খুচরা বিক্রি দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। যেখানে বিশ্লেষকরা ১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরেও এটি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। অক্টোবরে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় দিবসের ছুটি সত্ত্বেও খুচরা বিক্রি এমন নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গিয়েছে। যদিও এ ছুটিতে চীনাদের ভ্রমণ ও কেনাকাটা অনেক বেড়ে যায়।
কভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত মাসে বিধিনিষেধ আরো কঠোর করে চীনা সরকার। রেস্তোরাঁ শিল্পের মতো মহামারী-সংবেদনশীল পরিষেবা ব্যবসাগুলো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। গত মাসে দেশটির ক্যাটারিং আয় ৮ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস কমেছে। এ হার সেপ্টেম্বরের ১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস থেকে তীব্র হয়েছে।
অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ জিচুন হুয়াং বলেন, নভেম্বরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো খারাপ হতে চলেছে। রফতানি ধীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং জিরো কভিড নীতি প্রত্যাশার চেয়ে আরো দীর্ঘসময় অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদে চীনের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও হতাশাজনক।
অক্টোবরে আবাসন খাতের বিনিয়োগ এক বছর আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। কমার এ হার ২০২০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বেশি। সেপ্টেম্বরে এ খাতের বিনিয়োগ কমার হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে বর্গফুটের হিসাবে আবাসন বিক্রি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ নিয়ে টানা ১৫ মাস ধরে এ খাতের বিক্রি নিম্নমুখী রয়েছে। ক্রেতারা দীর্ঘায়িত কভিডজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ায় ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে অনিচ্ছুক। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে এ খাতে তারল্য বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারে চীনা আবাসন খাতের স্টক ও বন্ডকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে।










