পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা গেছে। তবে এ বৃদ্ধির পছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশলী তথ্য নেই বলে গতকাল ডিএসইর মাধ্যমে জানিয়েছে জীবন বীমা খাতের কোম্পানিটি। 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ মে থেকে টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর। এদিন লেনদেন শুরুর আগে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৯২ টাকা ১০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা ৪০ পয়সায়। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪৩ টাকা ৩০ পয়সা বা ৪৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত রোববার কোম্পানিটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এদিন মোট ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৩টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির ১৬ লাখ ৯৫২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। 

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ তহবিলের আকার ২ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আর সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল বেড়েছে ৭৬ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২০ হিসাব বছরের জন্য মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ১৪ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন। আগের হিসাব বছরে ৮ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। 

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৪ হাজার ২৩৬টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৫৫ ও বাকি ৪১ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।