চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন আমদানিকারক দেশ। দেশটিতে সর্বাধিক সয়াবিন সরবরাহ করে ব্রাজিল। কিন্তু চলতি বছর খরা ও তীব্র তুষারপাতের কারণে ব্রাজিলে সয়াবিন উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফলে দেশটি চীনে সয়াবিন সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। জুলাইয়ে ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে চীনের। দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ব্রাজিল থেকে ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে চীন। এর আগের বছরের একই মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮১ লাখ ৮০ হাজার টন।

চলতি বছর মহামারীর সংকট কাটিয়ে পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরতে শুরু করে চীনের গবাদি পশু, বিশেষ করে শূকর পালন খাত। ফলে বছরের প্রথম মাসগুলোতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়ে দেয় চীনের সয়াবিন মাড়াইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে গবাদি পশু খাতে কমতে শুরু করে সয়াবিনের চাহিদা। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে শূকরের মাংসের দাম কমে যাওয়ায় পশুখাদ্যের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি সয়াবিন আমদানি হ্রাসে জ্বালানি জুগিয়েছে।

শুধু ব্রাজিল নয়, সবগুলো উৎস থেকেই চীনের সয়াবিন আমদানি হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ে চীন সব মিলিয়ে ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় আমদানি ১৪ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে প্রধান সরবরাহকারী ব্রাজিল থেকে হ্রাস পেলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে। চীনের শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের জুলাইয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৮ হাজার ৩৩১ টন সয়াবিন ক্রয় করেছিল। চলতি বছরের একই মাসে ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে ৪২ হাজার ২২৭ টনে উন্নীত হয়েছে।

দক্ষিণ চীনের শ্যাংডং রাজ্যের রিঝাও শহর দেশটির সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতের অন্যতম একটি কেন্দ্র। বছরের শুরুর দিকে এ শহরে সয়াবিন মাড়াই কার্যক্রম বাড়লেও জুনের শেষের দিকে তা কমে সর্বনিম্নে পর্যায়ে নেমে গেছে। চাহিদা কম থাকায় মাড়াইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি টন সয়াবিন মাড়াইয়ে প্রায় ২৭ ডলার লোকসান গুনতে হচ্ছে।

চলতি বছরের বাকি মাসগুলোতে চীনের সয়াবিন আমদানি আরো হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সয়ামিলের চাহিদা কমতে থাকায় পশুখাদ্য হিসেবে বাড়ছে গমের ব্যবহার।

চীনে ২১ মাস ধরে গৃহপালিত পশু হিসেবে শূকরের সংখ্যা বাড়ছিল। কিন্তু শূকরের মাংসের দাম কমতে শুরু করায় খামার থেকে শূকরের সংখ্যা কমিয়ে আনেন খামারিরা। এতে ক্রমে হ্রাস পায় সয়াবিনের চাহিদা।