বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উত্তর আমেরিকায় ইভি মডেল ঘিরে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোন্ডা মোটরস। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরসের (জিএম) সঙ্গে যৌথভাবে ইভি গাড়ির দুটি মডেল তৈরি করতে যাচ্ছে জাপানি এ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি। নতুন মডেল বাজারে আসবে আগামী বছর নাগাদ। যদিও প্রাথমিক ঘোষণার এক বছর আগেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে ইভির নতুন প্লাটফর্ম নিয়ে আসারও ঘোষণা দিয়েছে এটি। খবর এপি।
হোন্ডার সিইও এবং প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো মিবে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে সমাজ পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার বিষয়টিকে মূল্য দেয়, তারাই অগ্রসর হবে।’
২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে হোন্ডা সব মডেলের গাড়িকে বিদ্যুচ্চালিত কিংবা ফুয়েল সেলে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফুয়েল সেল গাড়ির শক্তির উৎস হাইড্রোজেন, যা কার্বন নিঃসরণ করে না। তাছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ লাখের বেশি ইভি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
ক্রমেই ইভির চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে জাপানে। ২০২৫ সালে তুলনামূলক ছোট আকৃতির ইভি প্রযুক্তির এন-ওয়ান মডেল বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসার কথা জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পরের বছরের জন্য আরো দুটি ইভি মডেল আনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
বিশ্বের বৃহত্তম ইভি বাজার চীন। আগামী বছর হোন্ডা মোটরের তিনটি ইভি মডেল এ বাজারে ছাড়া হবে। যার মধ্যে রয়েছে ই: এনএসটু, ই: এনপিটু এবং সম্প্রতি সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত গাড়ির প্রদর্শনীতে উন্মোচিত নতুন মডেলটি। ২০২৭ সালের মধ্যে চীনে আরো সাতটি ইভি মডেল আনতে যাচ্ছে হোন্ডা। এছাড়া ২০৩৫ সাল নাগাদ চীনের বাজারে শতভাগ বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন বিক্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেসলা ও চীনের বিওয়াইডির আধিপত্য বজায় থাকলেও বিশ্বের সব গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখন এদিকেই জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো কার্বন নির্গমন ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভোক্তারা, বিশেষ করে যারা আগে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিল, তারাও বর্তমানে ইভি কিনতে শুরু করেছে। ইভি ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভোক্তাও। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হোন্ডা ও টয়োটার মতো জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইভি বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে কিনা!
এদিকে উত্তর আমেরিকায় গাড়ির জন্য জেনারেল মোটরসের ব্যাটারি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি এনার্জি সলিউশন ব্যবহারের যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে হোন্ডা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে মেরিসভিল প্লান্টসহ ওহাইওর আরো তিনটি প্লান্টে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। তোশিহিরো মিবে এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ টোকিওভিত্তিক হোন্ডা এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অগ্রসর হবে।’










