আবারো বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) দাম কমাতে যাচ্ছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। বুধবার দাম কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক। প্রতিদ্বন্দ্বী ইভি নির্মাতাদের বিপরীতে চলমান সর্বাত্মক মূল্যযুদ্ধে প্রকৃত আয় কমার ঝুঁকি নিতেও রাজি তিনি। খবর রয়টার্স।

গত বছরের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্য প্রধান বাজারগুলোয় দাম কমিয়েছে টেসলা। প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিক্রি বাড়াতে চায় মাস্ক। তাই মজুদ কমাতে মূল্যছাড় ও অন্যান্য প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। এক সম্মেলনে বিশ্লেষকদের মাস্ক বলেছেন, ‘‌একদিন মনে হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। আবার পরের দিনই মনে হচ্ছে না ‘‌‘‌ঠিক’’ আছে। আমি জানি না ঠিক কী চলছে। আমি এটাকে অশান্ত সময় বলব।’

মাস্কের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূচক বলছে, বড় ধরনের মূল্যছাড়ের ফলে ইভি খাতে টেসলার মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মাস্ক বলছেন, ‘‌দাম কমিয়ে হলেও টেসলা বিক্রি বাড়াতে প্রস্তুত।’

সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল না হলে টেসলাকে দাম কমাতে হবে মন্তব্য করে বুধবার তিনি আবারো বলেছেন, মার্জিন কমিয়ে হলেও বেশি গাড়ি তৈরি করা আমার কাছে অর্থপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে জানান, চলতি বছর টেসলার জনপ্রিয় ওয়াই মডেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ শতাংশ কমিয়ে ৫০ হাজার ৪৯০ ডলারে নামিয়ে এনেছে।

রয়টার্সের হিসাব অনুসারে, নিয়ন্ত্রক ক্রেডিট ব্যতীত ইভি খাতে টেসলার গ্রস মার্জিন প্রথম প্রান্তিকের ১৯ শতাংশ থেকে কমে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে, যা এক বছর আগে ওয়াল স্ট্রিটের করা ২৬ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। অতীতের ১৬ প্রান্তিকের মধ্যে গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সবচেয়ে কম ১৮ দশমিক ২ শতাংশ গ্রস মার্জিন ছিল টেসলার। এর আগে টেসলা এক বিবৃতিতে বলেছিল, যেহেতু ‘অনিশ্চিত সময়ের চ্যালেঞ্জ’ এখনো কাটেনি, তাই কোম্পানিটি উৎপাদন ব্যয় কমানোর দিকে জোর দেবে।

ওয়েডবুশ বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক ধাপে ‘‌উড়াধুড়া মূল্যছাড়’ ইভির বাজারে টেসলাকে শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়েছে। এ সাফল্যকে পুঁজি করে সামনে কোম্পানিটি আয় করতে প্রস্তুত। চলতি বছর টেসলা তার ১ কোটি ৮০ লাখ গাড়ি সরবরাহ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে কারখানা সংস্কার করার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। টেসলার স্টকধারী গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের পোর্টফোলিও ম্যানেজার টমাস মার্টিন এ উৎপাদন ব্যবধানকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ‘‌সামান্য তফাৎ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌তারা ন্যায্যমূল্য রাখার চেষ্টা করছে, যাতে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। এর মাধ্যমে তারা পুরোদমে কারখানা সচল রাখতে চায়। তারা গুদামে গাড়ি জমিয়ে রাখতে চায় না।’

মূল্যছাড় ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য স্থানে ইভি ক্রেতাদের সরকারি ট্যাক্স মওকুফের ফলে এপ্রিল-জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড ৪ লাখ ৬৬ হাজার গাড়ি ডেলিভারি দিয়েছে টেসলা। কিন্তু ব্যাপক মূল্যছাড় দেয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে ইভি জায়ান্টির। তার পরও শেয়ারপ্রতি ৯১ সেন্ট উপার্জন করেছে টেসলা। কোম্পানিটি নন-কোর ইনকামের ওপর ভর করে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলারের আয় করেছে। যদিও রিফিনিটিভের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল শেয়ারপ্রতি ৮২ সেন্ট লাভ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।