বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম চলতি বছর বেশ কয়েকবার রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তর অতিক্রম করেছে। তবে স্বর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব কম। ফলে সামনের দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। খবর বিজনেস ইনসাইডার।
ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে বেসরকারি খাতের চাহিদা বেড়ে গেলে মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকস আরো জানায়, স্বর্ণ কয়েকবার আগের রেকর্ড অতিক্রম করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়েনি। স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ফান্ডে (ইটিএফ) দেশটির বিনিয়োগ এখনো ২০১২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৬ বেসিস পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা জানান, স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগের অংশ কম থাকার মূল কারণ গত এক দশকে পোর্টফোলিওর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি (বিনিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগ সম্পদ) স্বর্ণের দাম ও বেচাকেনার বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি খাতের আর্থিক পোর্টফোলিওতে স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফের অংশ ছিল মাত্র দশমিক ১৭ শতাংশ। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের মোট শেয়ার ও বন্ডের পরিমাণ প্রায় ১১২ ট্রিলিয়ন ডলার।
গোল্ডম্যান স্যাকসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনাকারী বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকেরও কম স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দ সাধারণত দশমিক ১ থেকে দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদে বড় বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের গড় অংশ মাত্র দশমিক ২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিজিক্যাল গোল্ডের চাহিদা ইটিএফের তুলনায় খুব কম। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ফিজিক্যাল গোল্ডের চাহিদা মাত্র ১১-১৫ টন, যেখানে ইটিএফে নিট ক্রয় হয়েছে প্রায় ৪০০ টন।
এ প্রেক্ষাপটে সিটি ব্যাংক, ইউবিএস, মরগান স্ট্যানলি, ব্ল্যাকরক ও ব্রিজওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা রে ডালিওসহ অন্যান্য বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের অংশ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণকদের মতে, এ পরামর্শ ও বাস্তব বিনিয়োগের ব্যবধানই স্বর্ণের দামের পরবর্তী ঊর্ধ্বগতি তৈরি করতে পারে। ব্যাংকটির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের অংশ প্রতি ১ বেসিস পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ১ শতাংশ পয়েন্ট বাড়লে প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি হতে পারে।










