ফার্মাসিস্ট সংকটের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ওষুধের সুপার চেইন শপ সিভিএস ও ওয়ালমার্ট তাদের ফার্মেসিগুলো চালুর ক্ষেত্রে সময় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এরই মধ্যে অন্তত কয়েক হাজার স্টোর শাখায় তারা কর্মঘণ্টা কমিয়ে এনেছে। খবর সিএনএন।
মার্চের শুরুতে এ পদক্ষেপ পুরোপুরি কার্যকর হবে। স্টাফ সংকট এবং কভিড মহামারী হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তার চাহিদা কমার কারণে দুই খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানই তাদের ফার্মেসিতে কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি স্টাফ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়ালমার্টের অন্তত ৪ হাজার ৬০০ ফার্মেসি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দুই ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করবে। আর সিভিএস আমেরিকার ৬ হাজার ফার্মেসিতে সময় কমানো এবং শিফট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিভিএস কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘মূলত রোগীদের যখন সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন যাতে সিভিএস ফার্মেসি টিম তা নিশ্চিত দ্রুত করতে পারে এবং সেবা অব্যাহত রাখা যায়, সেজন্য এ সময় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কোম্পানি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ পরিবর্তন কোম্পানির ব্যবসা পলিসিরই নিয়মিত একটি অংশ। প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি অবশ্যই ভোক্তার চাহিদা ঠিকঠাক পূরণ করবে।’
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ওয়ালমার্টের একটি শক্তিশালী এবং অবিশ্বাস্য ফার্মেসি দল রয়েছে। আমরা এ পরিবর্তন কেবল তাদের কর্মজীবনের ভারসাম্য বাড়াতে করিনি, বরং আমাদের ভোক্তাদের সর্বোচ্চ সেবা বজায় রাখার জন্য এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ফার্মেসি চেইন সুপারশপ ওয়ালগ্রিনস স্টাফ সংকটের কারণে বেশকিছু ফার্মেসিতে কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার কোম্পানিটির মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের রোগী ও ভোক্তার চাহিদা সর্বোত্তমভাবে মেটাতে আমরা কোম্পানির স্টাফ ও বাজারে পণ্যের ভারসাম্য রাখার উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম। এতে আমাদের বেশকিছু স্থানে স্টাফ ও কর্মঘণ্টার সমন্বয় করতে হয়েছিল।’ ওয়ালগ্রিনসের এ মুখপাত্র আরো বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক স্টাফিং প্রবণতা দেখা গেছে, আমরা সাধারণ কর্মঘণ্টার মধ্যে কাজ করে অধিকসংখ্যক ফার্মেসি স্টোর ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
আমেরিকার ন্যাশনাল কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তাদের এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানিয়েছে, কাজের জায়গা থেকে ফার্মাসিস্টরা বেশ সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন, যা কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে আঘাত করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় মালিকানাধীন ফার্মেসিগুলোয় এর প্রভাব বেশি পড়েছে।










