গত বছরের প্রথমার্ধে করোনা মহামারীর প্রভাবে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয় বৈশ্বিক অপরিশোধিত ইস্পাত খাত। উৎপাদন, রফতানি ও বাজারদর পড়ে যাওয়ায় তীব্র সংকটে পড়ে খাতটি। ওই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এ খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০২০ সালের শেষদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে ইস্পাত খাতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসে। তবে এ বছর প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের ৬৪টি দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসছে। চলতি বছরের মার্চে অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯২ লাখ টনে। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ ধাতুটির উৎপাদন ছিল ৪৮৬ দশমিক ৯ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদিত হয়েছে ৩৫৬ দশমিক ৯ টন। গত বছরের তুলনায় এ দুই মহাদেশের উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ধাতুটির উৎপাদনের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৮ টন। এ অঞ্চলে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় উৎপাদন ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদিত হয়েছে ২৮ দশমিক ১ টন। এ মহাদেশে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদিত হয়েছে ২৬ দশমিক ২ টন। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত ধাতু ইস্পাত। চীন এ ধাতুটির শীর্ষ উৎপাদনকারী। বৈশ্বিক করোনা মহামারীর মধ্যেও গত বছর ইস্পাত উৎপাদনে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে চীন। এ সময় প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের মাইলফলকে পৌঁছে দেশটি। ইস্পাত উৎপাদনে শীর্ষ এ দেশটি এ বছরও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। মার্চে ৯৪ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে চীন। গত বছরের মার্চের তুলনায় দেশটির উৎপাদন বেড়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।
দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ভারতের উৎপাদন ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১০ টন, জাপানের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৩ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ১ টন উৎপাদন হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার ইস্পাত উৎপাদন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৬ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ১ টন, জার্মানের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬ টন, তুরস্কের ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৪ টন, ব্রাজিলের ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৮ টন এবং ইরানের উৎপাদন ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৬ টনে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।










