ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চা উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশ। তবে গত বছর থেকে দেশটির চা খাত দুঃসময় পার করছে। করোনা মহামারীর প্রভাবে চা উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটে চড়া চায়ের বাজার। ফলে আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চা আমদানি ১৩৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে আমদানিতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ দেশটির চা খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ইংগিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোর চা, কফি, রাবার, এলাচ ও গোলমরিচ উৎপাদকদের শীর্ষ সংগঠন ইউনাইটেড প্লান্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইন্ডিয়া (ইউপিএএসআই) জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভারত ৫৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১৩৯ শতাংশ।

ইউপিএএসআইয়ের প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত ভানসালি বলেন, গত বছর ভারত সব মিলিয়ে ২ কোটি ৩৪ লাখ কেজি চা আমদানি করেছিল। এর আগের বছর আমদানি করা হয় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার কেজি। সে হিসাবে গত বছর আমদানি ৪৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কেনিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম থেকে সবচেয়ে বেশি চা আমদানি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত মূলত চা রফতানিকারক দেশ। উৎপাদিত চায়ের পাশাপাশি আমদানীকৃত চা প্রক্রিয়াজাতের পর পুনরায় রফতানি করে থাকে দেশটি। তবে বছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি বড় পরিসরে বাড়লেও পুনরায় রফতানি মুখ থুবড়ে পড়ে।

দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন এক প্রতিবেদনে জানায়, আমদানিতে উল্লম্ফনের পাশাপাশি রফতানিতে ধস নেমেছে। স্থানীয় বাজারে চায়ের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পণ্যটির দাম আকাশছোঁয়া। এ কারণে আমদানি বাড়ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত জাহাজীকরণ ব্যয়সহ নানা কারণে হ্রাস পাচ্ছে রফতানি।

ভারতের চা বোর্ডের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির চা রফতানিতে জাহাজীকরণ হয়েছিল ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে জাহাজীকরণ হয় ২০ কোটি ২০ লাখ টন। সে হিসাবে রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ বছরের প্রথম তিন মাসেও রফতানি বড় পরিসরে কমেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর করোনা মহামারীতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর মিছিল ভারী হচ্ছিল। এ সময় চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করে— এমন গুঞ্জন ওঠে। এ কারণে ভারতে চায়ের ব্যবহার বেড়ে যায়।

দেশটির চা বোর্ড জানায়, বিদায়ী অর্থবছর ভারতের চা ব্যবহার ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটি ১৪ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা ব্যবহার করে। এর আগের অর্থবছর ব্যবহার করা হয়েছিল ১১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। মোট উৎপাদিত চায়ের ৮৯ দশমিক ২৪ শতাংশই ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহারের অনুপাতে উৎপাদন বাড়েনি। বরং করোনার প্রভাবে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের পরিমাণও বেড়েছে। এটি স্থানীয় বাজারে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ঊর্ধ্বমুখী দাম ও চাহিদায় সাড়া দিতে পানীয় পণ্যটির আমদানি বাড়াতে শুরু করে ভারত। ইউপিএএসআই দেশটির সরকারকে চা আমদানি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি চায়ের সমবণ্টন ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।