বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ১১তম ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। দেশে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করতে এবারের আয়োজনে মোট ১২টি শ্রেণীতে পুরস্কার দেয়া হবে।
আজ রোববার রাজধানীর এক পাঁচ তারকা আয়োজিত এসসিবি ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক আবেদন গ্রহণ, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে জমা হওয়া আবেদনগুলো শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেন সমন্বয়ে গঠিত এক বিশেষ বিচারকমণ্ডলীর মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। যাচাই-বাছাই ও বিচারকদের পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত হবে বিজয়ীদের নাম। চলতি বছরের শেষ দিকে ঘোষণা করা হবে পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের নাম।
এ বছরের কৃষি অ্যাওয়ার্ডে ব্যক্তিপর্যায়ে আজীবন সম্মাননা, সেরা কৃষক (নারী ও পুরুষ), পরিবর্তনের নায়ক, সেরা কৃষি সাংবাদিক, সেরা মেধাবী সংগ্রামী কৃষক (নারী ও পুরুষ) ও ছাদকৃষিসহ বিভিন্ন শ্রেণীতে পুরষ্কার দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কৃষি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, কৃষি সহায়তা ও বাস্তবায়নে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষিপণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে। সবমিলিয়ে উভয় পর্যায়ে মোট ১২টি শ্রেণীতে ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শাইখ সিরাজ বলেন, ১৯৭১ সালে যখন আমাদের জনসংখ্যা ৭ কোটি ছিল, তখন আমরা চাল আমদানি করতাম। বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার খাদ্য সংকুলান হচ্ছে আমাদের দেশেই। এর পুরো কৃতিত্বই কৃষকদের এবং এটি আমাদের জন্য বেশ সফলতা। কৃষির জন্য এ দেশে কখনো অনুকূল পরিবেশ ছিল না; সবসময়ই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে কৃষিকে। এখন সেখানে যুক্ত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ। একইসঙ্গে আবাদি জমি হ্রাসসহ বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের কৃষকরা কৃষিতে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, তা ভবিষ্যতের টেকসই ও স্মার্ট কৃষি গড়তে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে।
এসসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, রফতানিতে দেশের কৃষি খাতের আরো অনেক কিছু করার সুযোগ থাকলেও আমরা তা করতে পারিনি। আবার কর্মসংস্থানে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। এ খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান রয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি অভিযোজনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। নেদারল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশেরও প্রযুক্তিতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে অবশ্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, এসসিবির কান্ট্রি হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং বিটপী দাশ চৌধুরী ।










