পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার কৃষি খাত দিন দিন উন্নতির পথে এগোচ্ছে। বিশেষত দেশটি চাল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে দেশটি। এছাড়া সয়াবিন ও ভুট্টা উৎপাদনেও দেশটি রেকর্ড সফলতা পেয়েছে। খবর ঘানা ওয়েব ও বিজনেস ঘানা।

ঘানার খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. ওয়ুস আফ্রেয়ি আকোতো সম্প্রতি জানিয়েছেন, দেশটিতে চালের উৎপাদন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ২০১৬ সালে ঘানায় খাদ্যপণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। ২০১৯ সালে এসে পণ্যটির উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার টন।

উৎপাদন রেকর্ড বাড়ার পরও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এখনো প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল আমদানি করে ঘানা। তবে দেশটির কৃষিমন্ত্রী প্রত্যাশা রেখে বলেন, গত কয়েক বছরে ঘানায় চালের উৎপাদন যে হারে বেড়েছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সাল নাগাদ খাদ্যপণ্যটি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে দেশটি। এমনকি এ সময়ের মধ্যে দেশে উৎপাদিত চালে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পরও ২৯ হাজার টন উদ্বৃত্ত থাকতে পারে।

ওয়ুস আফ্রেয়ি আকোতো আরো বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে ঘানা চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এরপর থেকে পণ্যটির আমদানিতে প্রতি বছর আর মিলিয়ন ডলার খরচের প্রয়োজন পড়বে না, যা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। এছাড়া চলতি বছরের মধ্যেই সয়াবিন উৎপাদনেও স্বনির্ভর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ঘানার কৃষিমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের আগেই ঘানা চালে ৫০ শতাংশ ও সয়াবিনে ২০ শতাংশ স্বনির্ভরতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে চালে ও চলতি বছরের মধ্যে সয়াবিনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশটির সরকার স্থানীয় কৃষকদের এ খাতে ভর্তুকি প্রদানসহ নানা ধরনের সহায়তা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘানা সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ‘প্লান্টিং ফর ফুড অ্যান্ড জবস’-এর (পিএফজে) আওতায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সার্টিফায়েড বীজের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে সার্টিফায়েড বীজের ব্যবহার ছিল ৪ হাজার ৪০০ টন। পরের বছর পণ্যটির ব্যবহার বেড়ে ৬ হাজার ৮০০ টনে উন্নীত হয়। ২০১৯ সালে দেশটিতে সার্টিফায়েড বীজের ব্যবহার দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১৫ হাজার টনের রেকর্ড ছুঁয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে সারের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে ঘানার কৃষকদের সম্মিলিত সার ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার টন। ২০১৯ সালে এসে পণ্যটির ব্যবহার রেকর্ড বেড়ে ৩ লাখ ৩১ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।

এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ঘানায় ধান, সয়াবিনসহ ভুট্টার আবাদ ও একরপ্রতি ফলন ব্যাপকহারে বেড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ভুট্টার ফলন ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে ভুট্টার একরপ্রতি গড় ফলন ছিল ১ দশমিক ৮ টন। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৩ টনে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে ধানের ফলন ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে ঘানার প্রতি একর জমিতে গড়ে ২ দশমিক ৭ টন ধান উৎপাদন হতো। ২০১৯ সালে এসে কৃষিপণ্যটির ফলন বেড়ে প্রতি একরে গড়ে চার টনে উন্নীত হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সয়াবিনের ফলন। ২০১৭ সালে দেশটির প্রতি একর জমিতে গড়ে এক টন সয়াবিন উৎপাদন হতো। ২০১৯ সালে এসে প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়ে তেলবীজটির একরপ্রতি ফলন দাঁড়িয়েছে গড়ে আড়াই টন।