বিশ্বের বৃহত্তম দুই আর্থিক পরামর্শক সংস্থা রথসচাইল্ড অ্যান্ড কোম্পানি ও লিশটেনস্টাইনিশে ল্যান্ডেসব্যাংকের (এলএলবি) মধ্যে একটি রেফারেল চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুসারে, আবুধাবি ও দুবাইয়ের অফিস গুটিয়ে নিচ্ছে এলএলবি, আর সেখানকার ব্যবসার দায়িত্ব নেবে রথসচাইল্ড। খবর দ্য ন্যাশনাল।

প্যারিসভিত্তিক রথসচাইল্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ চুক্তির অধীনে রথসচাইল্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এলএলবির দুবাই অফিস অধিগ্রহণ করবে এবং ২০ স্থানীয় কর্মীকে নিজেদের অধীনে নেবে। এর ফলে রথসচাইল্ডের ব্যবস্থাপনায় আসতে যাচ্ছে ১২৫ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ। তবে রেফারেল চুক্তির মূল্য প্রকাশ করেনি কেউ।

রথসচাইল্ড গত বছর দুবাইয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা অফিস খুলেছিল। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সংস্থাটি। মূলত আরব আমিরাত ও আশপাশ অঞ্চলে সম্পদশালী উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন অফিসটি খোলে রথসচাইল্ড।

রথসচাইল্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান আলেকজান্দ্রে ডি রথসচাইল্ডের মতে, ইউএইতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় ধরনের সম্পদ ক্রমেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা।

এলএলবি জানিয়েছে, গভীর বিশ্লেষণের পর আবুধাবি ও দুবাই অফিস ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারা এখন লিশটেনস্টাইন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও জার্মানির অফিস থেকে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সহায়তা দেবে।

লিশটেনস্টাইনের রাজধানী ভাদুজভিত্তিক এলএলবি ২০০৫ সালে আবুধাবিতে অফিস খোলার মাধ্যমে আরব আমিরাতে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ২০০৮ সালে দুবাইতে অফিসে খোলে।

বিশ্বজুড়ে ৪০টির বেশি দেশে রথসচাইল্ডের উপস্থিতি রয়েছে। সংস্থার চারটি ব্যবসায়িক বিভাগে কাজ করেন ৪ হাজার ৬০০ বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে ১৬৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এলএলবির প্রধান মনোযোগ এখন ব্যক্তিগত ব্যাংকিং ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার কোটি ডলার।

বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে আমিরাত এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে সফল হয়েছে। বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেশটির অবস্থান বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থাগুলোকে আকর্ষণ করে আসছে।

গত জুনে ১৫ হাজার কোটি ডলারের গ্রাহক সম্পদধারী সুইজারল্যান্ডের পার্টনার্স গ্রুপ এবং ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পত্তি ও অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক হ্যারিসন স্ট্রিট আবুধাবিতে কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পায় জার্মান সম্পদ ব্যবস্থাপক প্যাট্রিসিয়া।

এছাড়া নিউইয়র্কভিত্তিক ব্ল্যাকরক, প্রুডেনশিয়াল ফাইন্যান্সিয়ালের বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা পিজিআইএম ও শিকাগোর বিনিয়োগ সংস্থা নুভিনসহ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপক অনেক প্রতিষ্ঠান আরব আমিরাতে ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

পরামর্শক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স এবং সম্পত্তি খাতের ডাটা সংগ্রহকারী নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর রেকর্ড ৯ হাজার ৮০০ কোটিপতিকে আকর্ষণ করতে পারে ইউএই। ২০২৪ সালে আনুমানিক ৮১ হাজার ২০০ কোটিপতি ও ২০ বিলিয়নেয়ারের আবাস ছিল দুবাই।