যুক্তরাজ্যে বেঁচে থাকা বা জীবনযাপনের জন্য কাজ করে তুলনামূলক সচ্ছল হওয়া আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। দশক ধরে দেশটিতে বেড়েছে সম্পদের বৈষম্য। সম্প্রতি দি ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজের (আইএফএস) গবেষণায় বলা হয়েছে, কাজ করে অর্থ উপার্জনের তুলনায় ধনীদের সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত দ্রুত হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সংকট-পরবর্তী সময়ে এটি বেশি দেখা দেয়। স্টক ও শেয়ারের মতো সম্পদের পাশাপাশি বাড়ির দামও ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে। যদিও একই সময়ে গড় মজুরি সেভাবে বাড়েনি।
আইএফএসের উপপরিচালক রবার্ট জয়েস বলেন, ব্রিটেনের একটি প্রজন্ম সম্পদের ক্রমবর্ধমান মূল্য দেখেছে। তাদের বাড়ি ও বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে দেখেছে। অন্যদিকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মীদের আয় অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের জন্য অর্থনৈতিক সাফল্য পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সত্যিটা হলো, আগের প্রজন্মের মতো জীবনযাপনের মান ধরে রাখতে বা ফিরে পেতে তরুণ প্রজন্মের কত দিন লাগবে বা আদৌ তারা পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
আইএফএসের গবেষণায় আরো উঠে এসেছে যে সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু তার সঙ্গে কর্মীদের উপার্জনের সামঞ্জস্য নেই। ফলে ধনীরা ঠিকই আরো ধনী হয়ে উঠছে, কিন্তু যে পরিবারটি জীবনধারণের জন্য হিমশিম খাচ্ছে তারা কিছুতেই ধনীদের কাতারে নাম লেখাতে পারছে না। এমনকি মধ্যবিত্তের কাতার থেকে উচ্চবিত্তের কাতারে পৌঁছতে যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হচ্ছে বা যে সময় ব্যয় করতে হচ্ছে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। গবেষণায় বলা হচ্ছে, আগের দশকে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত হতে যে সময় লাগত, এখন তার চেয়ে ছয় বছর বেশি সময় লাগছে। ২০০৮ সালে পূর্ণকালীন স্বাভাবিক কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করা হতো তা দিয়ে ১০ বছরের মধ্যেই মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের কাতারে পৌঁছনো যেত। কিন্তু ২০১৮ সালে এসে একই উত্তরণের জন্য সময় লেগেছে প্রায় ১৬ বছর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপার্জনের গুরুত্ব আগের মতোই রয়ে গিয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্যকে উসকে দেয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্পদ। এমন সময় এ প্রতিবেদন দেয়া হলো যখন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট সম্পদের ওপর কর বাড়ানোর জন্য এক ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এ অবস্থায় সরকারি সেবার সুবিধায় কোনো কাটছাঁট না করে বরং ধনীদের ওপর করারোপে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। কারণ নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারী ও সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে এমনিতেই জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চাপে রয়েছে ব্রিটেনের দরিদ্র পরিবারগুলো। ফলে সরকারি সুবিধায় কোনো কাটছাঁট করলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনের ৩৬ শতাংশ বাড়ির মালিকের বয়স ৩০-এর কোটায়, এরা আশির দশকে জন্ম নিয়েছেন। অন্যদিকে ৫৫ শতাংশ বাড়ির মালিক সত্তরের দশকে জন্ম নেয়া, ৬০ শতাংশ মালিকের জন্ম পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে। আইএফএসের তথ্য অনুযায়ী, সম্পদের এ বৈষম্যের কারণ দেশের সম্পদের বড় অংশই রয়েছে বয়স্ক প্রজন্মের হাতে। সেই সঙ্গে গত এক দশকে মজুরির ক্ষেত্রে তেমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি। ফলে দুই প্রজন্ম ও দুই শ্রেণীর মানুষের মাঝে সম্পদের ক্ষেত্রে বেশ ফাঁক তৈরি হয়েছে। এর অর্থ, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ তরুণ প্রজন্মের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজ করে অর্থ উপার্জন এখনো অনেক বেশি পরিশ্রমের ও সময়সাপেক্ষ।










