নেতিবাচক (শূন্য) সুদহার নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে জাপান। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। বিওজের ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য পলিসি বোর্ডের সদস্যরা পণ্য মূল্য ও শ্রমের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জাপানের অর্থনীতিবিদরা জানান, নেতিবাচক সুদহার নীতি থেকে প্রস্থান জাপানের অর্থনীতিতে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলবে। কর্তৃপক্ষ সাবধানে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। কীভাবে এখান থেকে বেরিয়ে আসা যায়, এর সময় ও পদ্ধতি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ভোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর খুবই সীমিত পর্যায়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কিছু কোম্পানিকে অন্যদের তুলনায় বেশি আঘাত করতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিওজের ডেপুটি গভর্নর রিওজো হিমিনো বলেন, ‘‌আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপের"মুখে পড়তে পারে। তবে টেকসই স্বল্প সুদের হারের সঙ্গে তুলনা করলে নতুন ব্যবস্থাপনাকে সহজ মনে হবে।’

কোম্পানিভেদে প্রভাব ভিন্ন হবে বলে স্বীকার করে রিওজো হিমিনো জানান, কোম্পানিগুলোর কাছে সামান্য নগদ অর্থ আছে, এমন অবস্থায় অধিক অর্থ ঋণ করতে চাইলে তা পাবে না।

বিওজের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বর্তমান নীতি থেকে সম্ভাব্য প্রস্থানের প্রভাব সম্পর্কে এ মন্তব্য নজিরবিহীন।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৩ সাল থেকে ব্যাপক আর্থিক সহজীকরণ নীতি মেনে চলছে। সুদের হার কমিয়ে রেখেছে। এর মাধ্যমে দেশটি কয়েক দশকের মূল্যস্ফীতির অবসান চেয়েছিল।

জাপানের অর্থনীতিবিদরা জানান, নেতিবাচক সুদের নীতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি কারণ হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা।

জাপানের মূল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (তাজা খাবার বাদে) এক বছর আগের তুলনায় অক্টোবরে ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এটা টানা ১৯তম মাসে বিওজের লক্ষ্যের চূড়ায়। তবে মজুরি স্থির রাখা যাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির জন্য সামঞ্জস্য রাখা মজুরি টানা ১৮তম মাসে হ্রাস পেয়েছে।

রিওজো হিমিনো বলেন, ‘‌মোটামুটি স্থিতিশীল মজুরি বৃদ্ধি আগামী অর্থবছরে অব্যাহত থাকবে।”যদিও আমাদের কাছে সব শর্তের জন্য সবুজ সংকেত নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

বিওজের গভর্নর কাজুও উয়েদা নভেম্বরে একটি সভায় বলেছিলেন যে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাড়ছে।"

পলিসি বোর্ডের সদস্য তোয়োকি নাকামুরা নভেম্বরে উল্লেখ করেছেন যে মজুরি বৃদ্ধি মূল্যবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাবে। ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীতি সংশোধনের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন।