নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে বৈশ্বিক মূল্যসূচক কিছুটা কমেছে। চলতি মাসের শুরুর নিলামে
দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছিল। তবে সর্বশেষ এ নিলামে তা দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। খবর এগ্রিল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
জিডিটি মূল্যসূচক অনুযায়ী, সবশের্ষ আন্তর্জাতিক নিলামে ২৮ হাজার ৬৭০ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৪০ টন দুগ্ধপণ্য। সর্বশেষ নিলামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১১০ ডলার।
সাম্প্রতিক সময়ে মাসে দুটি করে জিডিটির নিলাম ডাকা হয়। চলতি মাসের প্রথম নিলাম ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের ১৬৯ জন নিলামে অংশ নেন। এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় নিলামটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন ১৫৭ জন। এর মধ্যে নিলামে জয়লাভ করেন ১০০ জন।
আগের নিলামে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম সর্বোচ্চ বাড়লেও পণ্যটির দাম সর্বশেষ নিলামে অপরিবর্তিত ছিল। এর দাম ওঠে টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৬৫ ডলার। এ নিলামে ল্যাকটোজের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ১ হাজার ২৬০ ডলার। মাখনের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৫ হাজার ৭৩৬ ডলার। চেডার পনিরের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৪৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বাটার মিল্ক পাউডার নিলামে কোনো ডাক পায়নি। এছাড়া সুইট হুই পাউডার নিলামে তোলাই হয়নি।
এদিকে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার রাতেই বেড়ে যায় হোল মিল্ক পাউডারের চাহিদা। খামারিরা এ দুগ্ধজাত পণ্য থেকে সবচেয়ে বেশি দাম পান বলে এটির চাহিদা বাড়ছে। এবারের নিলামে পণ্যটির মূল্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। গতবারের তুলনায় পণ্যটির দাম ৫১ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষত, চীনের ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে কভিডকালে পুষ্টি চাহিদা পূরণে পণ্যটির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।
এনজেডএক্স লিমিটেডের দুগ্ধপণ্যবিষয়ক বিশ্লেষক স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, হোল মিল্ক পাউডারের চাহিদা বেশ ভালোই বেড়েছে। উত্তর এশিয়ার ক্রেতারা নিলামে ভালো দাম হাঁকানোর পর থেকেই এ চাহিদার ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে।
এদিকে বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক তাদের বর্তমান সেশনের ফার্মগেট মিল্ক প্রাইস (অস্ট্রেলিয়ার দুগ্ধ বিপণনের বাজার আদর্শ মূল্য) ৭৫ সেন্ট বাড়িয়ে কেজিপ্রতি ৮ ডলার বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
ওয়েস্টপ্যাক নির্ধারিত ফার্মগেট দুধের কেজিপ্রতি ৮ ডলার দাম ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৩-১৪ সালে কেজিপ্রতি ৮ ডলার ৪০ সেন্ট পর্যন্ত ফার্মগেট দুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমান দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক অনুযায়ী ভবিষ্যতেও দু্গ্ধজাত পণ্যের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ নাথান পেনি।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী শস্যের উচ্চ বাজারদর, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য শিল্প খাতে ভূমি ও জলসীমা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্য সরবরাহ বাধাগস্ত করছে।










