চলমান লকডাউনে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকার সুযোগে নওগাঁয় ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৩-১২ টাকা করে বেশি নিচ্ছেন। শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বোতলের গায়ে লিখা নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার কঠোর লকডাউন শুরুর পর থেকে বোতলজাত এসব তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পাঁচ লিটার ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের দাম বোতলের গায়ে ৬৫৫-৬৬০ টাকা লেখা থাকলেও তা ৭০০-৭২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি পাঁচ লিটার রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের দাম বোতলের গায়ে ৬৮৫ টাকা লেখা থাকলেও তা ৭১০-৭২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের প্রতি দুই লিটার সয়াবিন তেলের দাম বোতলের গায়ে ২৭৪ টাকা লেখা থাকলেও ২৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী সয়াবিন তেলের বোতলে লেখা নির্ধারিত দাম মুছে ইচ্ছামতো দাম বসিয়ে বিক্রি করছেন।

শহরের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, পাঁচ লিটার ফ্রেশ সয়াবিন তেল কিছুদিন আগে ৬৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সব ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের কেনা ৬৬০ টাকা মূল্যের কিছু ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতল দোকানে ছিল। এখন তো তেলের দাম বেড়েছে, তাই ৭২০ টাকায় বিক্রি করছি।

জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আগের দামে কেনা বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন বাজারজাত করে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। বোতলে নির্ধারিত মূল্যেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হবে। শিগগিরই বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল বলেন, লকডাউন চললেও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট নিরসনে সরকার পণ্যবাহী পরিবহনগুলো চলাচলে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তাই লকডাউনের অজুহাতে সয়াবিন তেলের দাম বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিগগিরই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করব।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মাদ ইব্রাহীম বণিক বার্তাকে জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৪টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। লকডাউনের অজুহাতে কেউ যদি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেশি নিয়ে থাকে—শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।