ভারতের সৌন্দর্য খাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা দেশটির প্রসাধনী খাতকে প্রভাবিত করছে সবচেয়ে বেশি। তাতেই বিভিন্ন ব্র্যান্ড ভারতীয় বাজারে শেয়ার কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মূলত কর বাদ দিয়ে মানুষের মোট আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই ব্যক্তিগত যত্নের দিকে ভোক্তাদের মনোযোগ বাড়ছে। ফলে ই-কমার্সে বিক্রিও ভালো হচ্ছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
দ্য বডি শপের এশিয়া সাউথের মার্কেটিং, প্রডাক্ট অ্যান্ড ডিজিটালের ভাইস প্রেসিডেন্ট হারমিত সিং বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ পাঁচটি বাজারের একটি ভারত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল বাজারও। বছরজুড়ে বাজারটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে দুই বছরে।’
তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতে নিজেদের ব্যবসা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে দ্য বডি শপ। এরই মধ্যে পুরো ভারতে ২০০টি দোকান রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সংখ্যাটা ৩০০তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়েই আরো অন্তত ১৫টি নতুন শহরে নিজেদের শাখা খোলার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে ই-কমার্স বিক্রি বেড়েছে ১১০ শতাংশ এবং বডি শপের প্রত্যাশা চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হবে। হারমিত বলেন, ‘তরুণ সমাজের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণীও বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ফলে যেখানে যেখানে আমাদের গ্রাহক আছে, সেখানেই আমাদের পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
আপাতত শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কথাই বলা হলো, এমন আরো অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত বাড়তে থাকা আকর্ষণীয় বাজারটিতে ব্র্যান্ড, স্টার্ট-আপস ও বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মনোযোগী হয়েছে। স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, ভারতের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত যত্নের পণ্যের বাজার ২০২৭ সালের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ৫৭২ কোটি ডলার।
এক্সপার্ট মার্কেট রিসার্চের বিশ্লেষকরা এ খাতবিষয়ক এক রিপোর্টে জানিয়েছে, বর্তমানে এ বাজার মূলত কর প্রদান করার পরের মূল আয় দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, সেই সঙ্গে এখন ব্যক্তিগত যত্নে মানুষের খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে এবং নিজেকে সুন্দর দেখানোর ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতি মূলত ভোক্তা দ্বারা পরিচালিত। চীনকে ছাড়িয়ে এটি সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিতে বেশ উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে ভারতে ভোক্তাদের ব্যয়ের প্রবণতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ভারতীয় রুপিতে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ২৩ ট্রিলিয়ন রুপি।
দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশির বয়স ৩০ বছরের নিচে আর তারাই বিভিন্ন বিউটি ব্র্যান্ডের মূল ব্যবহারকারী। এদের মধ্যে আবার নারীরা মূল ভোক্তা, তবে এখন ছেলেরাও ব্যক্তিগত যত্নের ক্ষেত্রে কিছু অর্থ ব্যয় করছে বলে জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইডাররা। এক্ষেত্রে বেশি কেনাবেচা হচ্ছে শাওয়ার জেল, ফেসওয়াশ, স্কিন ক্রিম ও মেকআপ।
ব্যাঙ্গালুরুভিত্তিক ওয়াও স্কিন সায়েন্স মূলত প্রাকৃতিক ত্বক ও চুলের যত্নের প্রসাধনী পণ্য তৈরি করে। এক দশক আগে পথচলা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মনীষ চৌধুরী বলেন, ‘যখন আমরা শুরু করেছিলাম, ভেবেছিলাম এটি সুস্থতা চর্চা কেন্দ্র হবে। কিন্তু আমরা পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখতে পাই। তারপর স্বাভাবিকভাবেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পণ্য, ব্যক্তিগত যত্ন ও সুস্থতা চর্চার ব্র্যান্ড হয়ে উঠি।’










