চলতি মৌসুমে কফি উৎপাদন ও রফতানিতে মন্দাভাব পিছু ছাড়ছে না ব্রাজিলের। এ সুযোগে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নিচ্ছে ভারত। চলতি মৌসুমে কফির বাম্পার ফলন বৈশ্বিক রফতানি বাজারে দেশটির হারানো গৌরব ফিরে পেতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশ। দেশটিতে তীব্র তুষারপাতের কারণে কফির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে কফির বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা। ফলে বিশ্ববাজারে ক্রমে বাড়ছে পানীয় পণ্যটির দাম। এমন পরিস্থিতিতে কফি রফতানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। খবর মানিকন্ট্রোল ও গ্লোবাল নিউজ।
ভারতীয় কফি বোর্ড জানায়, ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটি ৩ লাখ ৩৪ হাজার টন কফি উৎপাদন করেছে। এর আগের মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ১২ শতাংশ বেড়েছে। ভারতে উৎপাদিত কফির ৭০ শতাংশই রোবাস্তা জাতের। ২০২০-২১ মৌসুমে রোবাস্তা উৎপাদন ১১ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। তবে অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টনে সীমাবদ্ধ ছিল।
উৎপাদিত এসব কফির ৭০ শতাংশই রফতানি করে থাকে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশটি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৭৭ টন কফি রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। ভারতীয় কফির প্রধান রফতানি গন্তব্য ইউরোপ। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি, জার্মানি ও বেলজিয়াম ভারতীয় কফির প্রধান ক্রেতা দেশ। করোনা মহামারীর প্রভাবে ইউরোপের দেশগুলোতে ঘরের বাইরে বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট কিংবা কফি শপে কফি পানের পরিমাণ বড় পরিসরে হ্রাস পেয়েছে। এ সময় মানুষের মাঝে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে ঘরে বসে কফি ক্রয়ের প্রবণতা ছিল বেশি।
ভারতের কফি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রমেশ রাজা বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বেশির ভাগ ক্যাফে ধীরে ধীরে চালু হতে শুরু করেছে। মহামারীর প্রভাবও ক্রমে কমছে। চলতি বছর ভারত সরকার ১০০ কোটি ডলারের কফি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
রমেশ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে কম কফি রফতানি করে ভারত। এ সময় ডলার মূল্যে ৩ লাখ ৬ হাজার ৩৮৭ টন কফি রফতানি হয়। এর আগের বছরের তুলনায় রফতানি ১২ শতাংশ হ্রাস পায়।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে রফতানি বৃদ্ধি ও বড় মাপের লক্ষ্যমাত্রা আশার আলো জাগালেও উদ্বেগ কাটেনি এখনো। জাহাজীকরণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং কনটেইনার সংকট রফতানিকারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিস্থিতি গত বছরের মতো খারাপ নয়।
কফি রফতানিকারকরা জানান, রোবাস্তা কফির প্রধান দুটি রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া। ইউরোপে কফি রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় এসব দেশকে অতিরিক্ত জাহাজীকরণ ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এটি ভারতকে রফতানি বাজারে সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া যেসব কনটেইনারে অপরিশোধিত কাজু আমদানি হয় সেসব কনটেইনারেই কফি রফতানির সুবিধা পাচ্ছে ভারত।
এদিকে সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ক্রমে বাড়ছে কফির দাম। মূল্যবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে বলে জানান রমেশ রাজা।










