মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এদিকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীন বিপর্যস্ত প্রপার্টি মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন কিছু সহায়তা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স। 

আইসিই ফিউচারস ইউরোপে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৫ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮০ ডলার ৬০ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৫ ডলার ৯২ সেন্টে। এর আগের দিন বাজার আদর্শটির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারেরও বেশি কমে গিয়েছিল। 

সিএমসির বাজার বিশ্লেষক টিনা টেং জানান, ফেডারেল রিজার্ভের বুধবার দেয়া এক বক্তব্যের পর সুদহার কমার প্রত্যাশা তৈরি হয় বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে। আর সুদহার কমলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সিকিউরিটিজের পরিবর্তে জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোয় বিনিয়োগ বাড়বে। 

জেরোমি পাওয়েল তার বক্তব্যে জানান, সুদহার বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে কমছে। টেকসই কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ছে। ফলে আগামী মাসগুলোয় সুদহার কমিয়ে আনা হবে। 

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ বছরের জুনের মধ্যে সুদহার কমানো হতে পারে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম ব্যয় আশঙ্কার তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি। বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধির হারও দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নিম্নমুখী সুদহার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জ্বালানি তেলের চাহিদার জন্য সহায়ক। 

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। প্রপার্টি খাতে বিপর্যয়ের প্রভাবে গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ির দাম কমে প্রায় নয় বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এ খাতকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশটির সরকার নতুন সহায়তা পদক্ষেপ নিয়েছে। 

বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছর অপরিশোধিত তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে চীন একক প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এ সময় সেখানে দৈনিক ৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল করে চাহিদা বাড়বে। জেপি মরগান এক গ্রাহক নোটে জানায়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাদ দিলে জ্বালানি তেলের জন্য একটি ভালো বছর হতে যাচ্ছে ২০২৪ সাল।

বিশ্লেষকরা আরো জানান, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিচ্ছে অনেক শিপিং কোম্পানি। তবে সংঘাতের এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।