আর এই ভ্রমণ আয়োজনে সব ধরনের লেনদেন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে বিকাশ। ফলে, দৈনন্দিন ব্যস্ততা, টিকেট কাউন্টারে লম্বা লাইন, ক্যাশ বহনের ঝুঁকি, ভাঙতি টাকার ঝামেলা- এই সবকিছুকে পেছনে ফেলে ভ্রমণপিপাসুরা এখন শুধু হাতের মোবাইল আর কাঁধের ব্যাগটি নিয়েই বেরিয়ে পড়ছেন নিশ্চিন্তে।

বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা প্লেনের টিকিট বুকিং, হোটেল-রিসোর্ট বুকিং, রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার- সবকিছুর পেমেন্টই করা যাচ্ছে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে। বিকাশ পেমেন্টের এই সুবিধা পুরো ভ্রমণকে করে তুলছে আরও ঝামেলাহীন ও নিরাপদ। ফলে যাত্রার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত, পুরো প্রক্রিয়াটিই ভ্রমণপ্রেমীরা এখন সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবের সময়ে।

বাস-ট্রেন-লঞ্চ-প্লেনের টিকিট:

বিকাশ অ্যাপ থেকে এখন খুব সহজেই অনলাইন টিকেটিং প্ল্যাটফর্ম- বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিডিটিকেটস, যাত্রী টিকেট, সহজ টিকেট, পরিবহন. কম, শ্যামলী পরিবহন, এ্যামি ট্রাভেলস, ফার্স্টট্রিপ, গোযায়ান, শেয়ারট্রিপ থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা প্লেনের টিকেট কাটা যাচ্ছে ।

বিকাশ অ্যাপে ই-টিকেটিং সুবিধা নিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামিউল আলীম বলেন, “অফিস থেকে ছুটি পেলেই বন্ধুরা দল বেঁধে ট্রেকিংয়ে যাই। ট্রেন বা বাসের টিকিট কাটা থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকার ট্যুর গাইডের অগ্রিম পেমেন্ট- সবই বিকাশ-এ করি। ঘুরতে যাওয়ার আগে দলের সবার কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করাও অনেক সহজ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো, সাথে অতিরিক্ত ক্যাশ টাকা রাখার ঝুঁকিটা এখন আর নেই। জরুরি দরকার পড়লে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড থেকে সহজেই ‘অ্যাড মানি’ করে নেওয়া যায়।”

কম খরচে হোটেল-রিসোর্ট বুকিং:

কেবল টিকেট নয়, দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল ও রিসোর্ট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল পেমেন্ট এখন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক বিশ্বস্ত মাধ্যম। আগে থেকেই পছন্দের হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং দেওয়া একদিকে যেমন ভ্রমণকারীদের অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখে, অন্যদিকে বিশেষ ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগও থাকে, যা ভ্রমণের সামগ্রিক খরচ কমাতে সাহায্য করে। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গোযায়ান-এ দেশ-বিদেশের হোটেল-রিসোর্ট বুক করা যাচ্ছে । পাশাপাশি, পেমেন্ট গেটওয়ে হয়ে এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টেও রয়েছে সরাসরি বিকাশ পেমেন্টের ব্যবস্থা।

প্রায় প্রতি মাসেই ব্যাগ গুছিয়ে নতুন কোনো গন্তব্যে ঘুরতে যাওয়া আরিয়ান ও মেহজাবিন দম্পতির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে তারা খুঁজে নেন একটুখানি মুক্তির আনন্দ। তবে তাদের এই ভ্রমণের বিশেষত্ব হলো- সঠিক পরিকল্পনা। এই দম্পতি মনে করেন, ভ্রমণ মানেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনাই পারে খরচ কমিয়ে অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করতে। তারা বলেন, প্রযুক্তির সাহায্যে ভ্রমণকে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করা যায়; তাই ট্যুর প্ল্যান করার সময় বিকাশ অ্যাপে বা ওয়েবসাইটে দেখে নেই কোন হোটেলে কি অফার আছে। পাশাপাশি, দেশের সব পর্যটন এলাকায় এখন ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ থাকায় ক্যাশ টাকা নিয়ে বেশি ভাবতে হয় না।”

দুর্গম ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশনেও ক্যাশলেস লেনদেন, উপকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা:

বিকাশ যে কেবল শহরে বা অনলাইনে পেমেন্টের সুবিধা দিচ্ছে তা নয়। দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকার স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এখন বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন। এর ফলে পর্যটকরা খাবার, স্থানীয় পরিবহন বা ছোটখাটো কেনাকাটার বিলও খুব সহজে পরিশোধ করতে পারছেন বিকাশ দিয়ে।

সিলেটের ভোলাগঞ্জ মানেই ধবধবে সাদা পাথর আর পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ সবুজাভ জলরাশি। এই অপরূপ সৌন্দর্যের ঠিক পাশেই ছোট কিন্তু ব্যস্ত এক খাবারের হোটেল চালান নুরুল আমিন। তিনি বলেন, “সারা দেশ থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। অনেকেই আসার আগে ফোনে খাবারের অর্ডার দিয়ে বিলের কিছু অংশ অগ্রিম বিকাশ করে দেন। এখন আমার একটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টও আছে। এতে আমাদেরও ব্যবসার সুবিধা হয়েছে, আর পর্যটকরাও এখন ক্যাশ টাকা সাথে আছে কি নেই, তা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।”

বিকাশ পেমেন্টে টিকেটিং ও ভ্রমণে থাকে বিভিন্ন অফারও:

বিকাশ পেমেন্ট ভ্রমণে এনেছে দ্রুততা, নিরাপত্তা এবং স্বাছন্দ্য। কিউআর কোড স্ক্যান, এনএফসি ট্যাপ, বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধমে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইনে টিকিট কাটা, প্রয়োজনের মুহুর্তে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘অ্যাড মানি’ করার মতো সুবিধাগুলো ভ্রমণকে ক্যাশলেস এবং ঝামেলামুক্ত করেছে। পাশাপাশি, ভ্রমণপিয়াসীদের বেড়ানোকে আরও আনন্দময় ও সাশ্রয়ী করতে বাস-ট্রেন-লঞ্চ-প্লেন টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ে উৎসবের সময় নানা ধরনের অফার দিয়ে থাকে বিকাশ।