নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর জের ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে টানা সরকারি ছুটি ও লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন স্থলপথে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। এ অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্প্রতি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা রেলপথে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। তবে এ পদ্ধতিতে আমদানিতে সময় বেশি লাগছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে পথিমধ্যেই অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমদানি করা পেঁয়াজের মান পড়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন দীর্ঘদিন পর আমদানি শুরু করা হিলির আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

গতকাল হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে ভারত থেকে রেলপথে আমদানি করা ভালো মানের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে অতিরিক্ত গরমে যেসব পেঁয়াজে পচন ধরেছে, সেগুলো কেজিপ্রতি ১০-১২ টাকায় বিক্রি হয়। আমদানি করা নিম্নমানের কিছু পেঁয়াজ বস্তাপ্রতি (৪৫ কেজি) ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

স্থানীয় পেঁয়াজ আমদানিকারক এরশাদুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, রেলপথে আমদানিতে সময় বেশি লাগছে। ফলে একদিকে চাহিদার তুলনায় বাড়তি পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গরমের কারণে পথিমধ্যে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খালাসের পর নিম্নমানের পেঁয়াজ খুব কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। শুরুর দিকে রেলপথে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৪-২৭ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন বাড়তি সরবরাহের বিপরীতে মান কমতে থাকায় পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১৮-২০ টাকায় নেমে এসেছে। নিম্নমানের পেঁয়াজ ১০-১২ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ বেশি দিন গুদামেও রাখা যাচ্ছে না। এতে আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন হিলির আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর জের ধরে গত ২৬ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের বাজারে সরবরাহ কমার কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি ভারত সরকার রেলপথে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ায় হিলির আমদানিকারকরা ফের পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। গত ২৮ মে, ১ জুন ও ৬ জুন তিন দফায় মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ৪ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।