ভারতের উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১২ হাজার টন। গত বছরে একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ১৯ হাজার টন। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ভোজ্যতেলের আমদানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। দেশটির শিল্পসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান সলভেন্ট এক্সট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসইএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালের পর ভারতে আরবিডি পাম অলিনের আমদানি সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে ভোজ্যতেলের আমদানি বেড়ে ১৩ লাখ ৪৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৫৩ হাজার টন। অন্যদিকে এ সময়ে দেশটিতে অভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ কমে ৬৪ হাজার ১১৯ টনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৮২৫ টন।

দেশটিতে নভেম্বরে তেলের মৌসুম শুরু হয়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত। এসইএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতে উদ্ভিজ্জ তেলের আমদানি ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে দেশটিতে উদ্ভিজ্জ তেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টনে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টন।

এসইএ বলছে, ভারত-মালয়েশিয়ার মধ্যকার সিইসিএ চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়াকে শুল্ক সুবিধা দেয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশটি থেকে ভারতে বাজারে অপরিশোধিত পাম অয়েল ও পাম অলিনের রফতানি বেড়েছে। বিশেষ করে এ চুক্তির পর ভারতে পাম অলিনের আমদানি ব্যাপক হারে বেড়েছে।

এদিকে অপরিশোধিত পাম অয়েলের বাড়তি আমদানির প্রভাব পড়েছে ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয়। বাড়তি আমদানির ফলে দেশটির পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কমেছে।

চলতি মৌসুমের জুলাই পর্যন্ত পরিশোধিত তেল বা আরবিডি পাম অলিনের আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ হাজার টনে। যেখানে আগের মৌসুমের একই সময়ে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টন। তবে এ সময়ে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমে ৮৭ লাখ ১৩ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আগের মৌসুমে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার টন।

এসইএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের বাজারে আরবিডি পাম অলিনের হিস্যার পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।

তবে আমদানি বাড়লেও পণ্যটির দাম কমতির দিকে রয়েছে। এসইএ বলছে, বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম ১০ থেকে ১৬ শতাংশ কমেছে।