মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার এয়ারলাইনসগুলোয় শিগগিরই ৭৮৭ উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করবে বোয়িং। উৎপাদন ত্রুটির কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মডেলটির সরবরাহ বন্ধ ছিল। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে গত আগস্ট থেকে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজটির সরবরাহ শুরু করেছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর দ্য ন্যাশনাল।

বোয়িংয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের বিক্রি ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর আরেকাত বলেন, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসগুলোয় মোট চার বা পাঁচটি ৭৮৭ ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। পুনরায় সরবরাহ শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। আমরা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে আবারো পরিষেবায় ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি আরো বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর যে ৭৮৭ উড়োজাহাজের সরবরাহ আবারো শুরু হয়েছে। কারণ আমাদের অনেক গ্রাহক মডেলটি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

ওমর আরেকাত বলেন, চলতি বছর কাতার এয়ারওয়েজ ৭৮৭-৯ মডেলের সরবরাহ পাবে। সরবরাহ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর এ অঞ্চলে প্রথম ড্রিমলাইনারের চালান পাবে কাতারের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। আগামী বছর মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অনেক এয়ারলাইনস ৭৮৭ ওয়াইড বডি উড়োজাহাজের সরবরাহ পাবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ও ইজিপ্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আবুধাবির ইতিহাদ এয়ারওয়েজও আগামী বছর ৭৮৭-৯এস এবং বৃহৎ সংস্করণ ৭৮৭-১০ জেটের সরবরাহ পাবে। বাহরাইনের গালফ এয়ারের বহরে বর্তমানে সাতটি ৭৮৭-৯এস উড়োজাহাজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী বছর আরো তিনটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে বোয়িং।

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ২০২১ সালের মে মাসে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ৭৮৭ মডেলের সরবরবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। এক বছরেরও বেশি সময় পর গত আগস্টে মডেলটির সরবরাহ শুরুর অনুমতি দেয়া হয়।

ভার্জিনিয়াভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সব উড়োজাহাজ সঠিক স্পেসিফিকেশন ও নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রকৌশল বিশ্লেষণ ও যাচাই  করা হয়েছে। এরপরই পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এদিকে বোয়িংয়ের দীর্ঘ বিলম্বিত ৭৭৭এক্স যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ২০২৫ সাল নাগাদ পরিষেবা শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও জেটটি মূলত ২০২০ সালেই পরিষেবায় প্রবেশ করার কথা ছিল। মডেলটি ৭৭৭-৮ ও ৭৭৭-৯ নামে বাজারজাত   হবে। বিষয়টি নিয়ে ওমর আরেকাত বলেন, আমরা ৭৭৭-৯ জেটের সার্টিফিকেশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সার্টিফিকেশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ৭৭৭-৯ পরিষেবায় প্রবেশ করতে পারবে। দুবাইভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইনস মডেলটির বিলম্ব নিয়ে প্রথম থেকেই বোয়িংয়ের সমালোচনা করে আসছে। এমিরেটসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আদেল আল রেধা গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বোয়িং ৭৭৭এক্স জেটের সরবরাহে ব্যর্থ হওয়া আর যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির হাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য অনেক সময় রয়েছে।