দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে ঝুঁকে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো। কারণ হিসেবে রয়েছে অঞ্চলটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, সরবরাহ চেইন, অনুকূল সরকারি নীতি ও উন্নত অবকাঠামো। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অধিগ্রহণ ও একীভূত করার মাধ্যমে সম্প্রসারণ করে চলছে কার্যক্রম, যা আগামী দিনগুলোয় অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির চালানো জরিপে এমনটাই উঠেছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
বিদেশী ব্যবসা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১২ মাসের মধ্যে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত বছরের সম্প্রসারণ ছিল ২০ দশমিক ১ শতাংশ। বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ ব্যবসাই তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বিবেচনায় নিয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে এ অনুপাত আরো বাড়বে।
এইচএসবিসির বৈশ্বিক জরিপে দেখা যায়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কোম্পানিগুলো অধিগ্রহণের দিকে ঝুঁকছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬৫ শতাংশ ব্যবসাই চীনের। প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৪ সাল নাগাদ অঞ্চলটিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির হিস্যা ৫০ শতাংশের কম।
যেসব প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উপস্থিত, তারা তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণ করতে চায়। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড পেয়েছে গুরুত্ব। এইচএসবিসি সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক প্রধান রেজিনা লি জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে বৈশ্বিক গ্রাহকের তহবিল, বাণিজ্য ও লেনদেন কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। ব্যাংকটি গ্রাহকের জন্য নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে সক্ষমতা বাড়িয়ে, যাতে অঞ্চলটির গ্রাহক ও বৈশ্বিক ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা লাভ করে।
২৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে জরিপ হয়। তাতে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোম্পানি, যাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার বিক্রির রেকর্ড রয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীরা ছিল।
বিনিয়োগকারীদের কাছে সিঙ্গাপুর আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ শ্রমশক্তি, ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, উন্নত অবকাঠামো, বাণিজ্যবান্ধব সরকার, নিয়ন্ত্রণ কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সরবরাহ চেইনের স্বচ্ছতা সেখানে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। সিঙ্গাপুরের অগ্রসর যোগাযোগ কাঠামো সেখানে ব্যবসার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
জরিপে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানই বিশ্বাস করে ১০ বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হবে ব্যাপক। সিঙ্গাপুরের পরিবেশ, সমাজ, সরকার ও নীতিমালা ব্যবসার সম্প্রসারণে ইতিবাচক। সিঙ্গাপুরে এর মধ্যেই এমন প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি রয়েছে, যারা ১২ মাসের মধ্যে পরিচালন ব্যয় বাড়াবে।
তার পরও সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য সিঙ্গাপুরের টেকসই পরিচালন পরিবেশই তাদের এখানে সম্প্রসারণের প্রধান কারণ। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সিঙ্গাপুরের সরকারি নীতিমালাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার সূচক ঊর্ধ্বমুখী।
সুযোগের প্রশ্ন এলে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া উদীয়মান বাজার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের কাছে। তারা এশীয় উদীয়মান হিসেবে সিঙ্গাপুরের পর দেশ দুটিকে এগিয়ে রাখতে চান। এইচএসবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বাণিজ্যিক প্রধান আমান্ডা মারফি বলেছেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শিল্পোৎপাদনের আকর্ষণীয় উৎস। সরবরাহ চেইন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে ও সেখানকার শ্রমিকরাও দক্ষ। ফলে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো অঞ্চলটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।’










