খরার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে রয়েছে ব্রাজিলের কফি ও চিনি উৎপাদন। এবার ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এসব কৃষিপণ্য। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আবাদকৃত আখ ও কফি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দেশটির কফি ও চিনি উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নামতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
ব্রাজিলে জুন থেকে শীত মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তৃতীয় বারের মতো বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। গত এক দশকে এটিই হবে তীব্রতর শৈত্যপ্রবাহ।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানায়, ব্রাজিল এরই মধ্যে ৯০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে রয়েছে। এ কারণে দেশটির কফি ও চিনিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পরিবহন সেবা সংকটের কারণে ব্রাজিলের রফতানি খাতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের জুলাইয়ে অতিরিক্ত বরফপাতের কারণে ব্রাজিলের দুই লাখ হেক্টর কফি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কফির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ গত সোমবার অ্যারাবিকা কফির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর আগে গত সপ্তাহে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছিল পানীয় পণ্যটির দাম।
রয়টার্স জানায়, ব্রাজিলের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজকের মধ্যে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে এবং আগামীকাল ও শুক্রবার নাগাদ সাও পাওলো ও মিনাস গেরিস প্রদেশে বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
ব্রাজিলের রুরাল ক্লিমার আবহাওয়াবিদ আন্তোনিও দো সান্তোস বলেন, সর্বশেষ শৈত্যপ্রবাহের মতো এটি শক্তিশালী হবে কিনা তা বলতে পারছি না। তবে এটি ব্রাজিলের কৃষি খাতকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এরই মধ্যে খরার কারণে ব্রাজিলের কফি ও চিনি উৎপাদনে ধস নেমেছে।
পণ্যবাজার ব্যবসায়ী প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ম্যারেক্স স্পেকট্রম জানায়, বরফপাত ও শৈত্যপ্রবাহে ব্রাজিলের প্রায় ৩৫ শতাংশ আখ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ব্রাজিলের বার্ষিক চিনি উৎপাদনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে পারে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া আগামী বছরের আখ আবাদেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ব্রাজিলের কৃষিবিষয়ক পরিসংখ্যান সংস্থা কোনাব জানায়, দেশটির মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ২০২১-২২ মৌসুমে আখ উৎপাদন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর এটিই হবে সর্বনিম্ন উৎপাদন।










