সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে ব্যাংক অব কানাডা (বিওসি)। তবে আগামীতে সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে আবারো সুদহার বাড়ানো হবে। খবর রয়টার্স
মূল্যস্ফীতি ২৭ মাস ধরে ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। একগুঁয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুন ও জুলাই উভয় মাসে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। কানাডার জিডিপি দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিতভাবে গত বছরের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রকৃত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।
ব্যাংক অব কানাডা বিবৃতিতে বলেছে, সাম্প্রতিক মন্থরতার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা কমছে। মুদ্রানীতিতে পরিচালনা পরিষদ নীতিগত সুদের হার ৫ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে বিওসি সুদহার আরো বাড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, ব্যাংকের অবস্থান দেখে বোঝা যাচ্ছে সুদহার আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই, অন্তত এখনই নয়।
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগ পোর্টার বলেন, ‘ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর দরজা বন্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের সন্দেহ, যদি প্রবৃদ্ধি তৃতীয় প্রান্তিকে পুনরুদ্ধার না হয় তাহলে ব্যাংক অব কানাডা আবারো রেট বাড়াতে পারে।’
মার্কিন ডলারের বিপরীতে কানাডীয় ডলারের বিনিময় মূল্য দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৬৫৫-এ। ২৪-৩০ আগস্টের মধ্যে রয়টার্সের জরিপে ৩৪ অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ৩২ জনই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাতারাতি সুদ হারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
টিডি সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু কেলভিন বলেন, ‘তৃতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ধীরগতি থাকবে বলে মনে হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দ্রুত পরিবর্তনের আশা করি না। তাই অক্টোবর ও ডিসেম্বরের বৈঠকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে।’
অন্যদিকে ২২ বছরের সর্বোচ্চ সুদহার ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চাপ অপসারণ করতে ঠিক যতটুকু দরকার, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ তার চেয়ে তুলনামূলক কম। মূল্যস্ফীতি বেড়ে চার দশকের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে গত বছর। ২০২২ সালে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশে। ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে ব্যাংক অব কানাডা ১০ বার সুদহার বাড়িয়েছে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে।
উদারপন্থী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সমর্থনেও কিছুটা ভাটা পড়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে। বিরোধীদলীয় রক্ষণশীল নেতারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর তুলেছেন। অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী আবাসন খাত সংকটের সময় সরকারের ব্যয় মূল্যস্ফীতিকে আরো তীব্র করে তুলেছে। অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, ‘সুদহার আর না বাড়ানোর জন্য ব্যাংক অব কানাডার বর্তমান সিদ্ধান্ত কানাডাবাসীর জন্য একটি স্বস্তির সংবাদ।’










