জাপানের সবচেয়ে বড় থিম পার্ক টোকিও ডিজনি রিসোর্ট এখন ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল। তবে সাফল্যের এ ধারায় পার্কটির মূল চরিত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে যখন চালু হয়, তখন এটি ছিল মূলত শিশুদের স্বপ্নের জায়গা। কিন্তু বর্তমানে শিশু-কিশোরদের চেয়ে ধনী ও একনিষ্ঠ ভক্তদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে পার্কটি। নিক্কেইয়ের সাম্প্রতিক তথ্য আনুযায়ী, টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়ায় জাপানের সাধারণ শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা এখন সেখানে আগের তুলনায় কম যাচ্ছে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (গ্রেড ৭-৯) শিক্ষার্থীদের কাছে টোকিও ডিজনির আকর্ষণ এখন আর আগের মতো নেই। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, বর্তমানে এটি আর শুধু মজার জন্য যাওয়ার মতো জায়গা নেই, বরং অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। যারা এখনো যায়, তারা মূলত বন্ধুদের নিয়ে বিশেষ আয়োজনে বা অনেক দিন ধরে জমানো টাকা খরচ করে শখের বশে যাচ্ছে।
জাপানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ না থাকায় টিকিটের এ চড়া দাম তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে ওসাকার ইউনিভার্সাল স্টুডিওর মতো জায়গাগুলো বেছে নিচ্ছে।
জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গড় মজুরির তথ্য অনুসারে, ১৯৮৩ সালে যখন পার্কটি প্রথম খোলা হয়, তখন প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের দাম ছিল ৩ হাজার ৯০০ ইয়েন। বর্তমানে সে দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯০০ থেকে ১০ হাজার ৯০০ ইয়েনে। সে সময় চার সদস্যের একটি পরিবারের একদিনের যাতায়াত খরচ ছিল তাদের ১ দশমিক ৪১ দিনের গড় আয়ের সমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) শেষে সে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৯২ দিনের গড় আয়ের সমান।
ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তনের কারণে ২০২৪ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ১৭ হাজার ২১০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এখন দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে জনপ্রতি আয় বাড়ানোর দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এতে ৪-১১ বছর বয়সী শিশুদের উপস্থিতির হার কমেছে। অন্যদিকে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী দর্শনার্থীর হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশে। এ বয়সী মানুষ মূলত অর্থনৈতিকভাবে বেশি সচ্ছল। ফলে ৪০ বছর পেরিয়ে আসা টোকিও ডিজনি এখন সাধারণ শিশুদের ‘স্বপ্নের দেশ’ থেকে ধনীদের ‘বিলাসবহুল অবকাশের জায়গায়’ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া










