ক্রমেই বাড়ছে তামার বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট।
কভিডের কারণে খনিগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে শিল্পধাতুটির সরবরাহ সংকুচিত হতে থাকে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা এ সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
খবর মার্কেটওয়াচ।
এদিকে সরবরাহ সংকট ধাতুটির দামেও প্রভাব ফেলে।
গত মাসে তামার দাম সর্বকালের শীর্ষে উঠে আসে।
এ মাসে দাম কমলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আশঙ্কা এখনো কাটেনি।
উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বর্তমানে দূষণমুক্ত জ্বালানি ব্যবহারে ঝুঁকছে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার।
এসব ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয় তামা।
এছাড়া আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি খাতেই তামার ব্যবহার অপরিহার্য।
ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধাতুটির চাহিদা।
কিন্তু সে অনুপাতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নেই।
ফলে পণ্যটির দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ চীন।
দেশটি তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো নির্দিষ্ট কিছু ধাতুর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সম্প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
এক্ষেত্রে একচেটিয়া বাজার, অবৈধভাবে মূল্যবৃদ্ধি ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধে বাজার মনিটরিং করছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি সরবরাহ সংকটের মুখে তামার দেশীয় মজুদ উন্মুক্ত করে দিয়েছে চীন।
তবে সরবরাহ না বাড়লে চীনের এ পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
থার্ড অ্যাভিনিউ ভ্যালু স্ট্র্যাটেজি পোর্টফোলিওর ম্যানেজার ম্যাথিউ ফাইন বলেন, বিশ্ববাজারে তামার তীব্র সংকট যে অশনিসংকেত বয়ে আনছে, তা বুঝতে বিশ্বের অনেক সময় লেগে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তামার সরবরাহ সংকটের পূর্বাভাস বাজার পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে সংকুচিত করে তুলছে।
তলানিতে ঠেকছে ধাতুটির বৈশ্বিক মজুদও।
অন্যদিকে দুই-তিন বছর ধরেই এটির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে।
ফাইন বলেন, বর্তমানে তামার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় সাড়া দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি নতুন তামা খনি তৈরি করতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগে যায়।
এছাড়া বিদ্যমান একটি খনি সম্প্রসারণ করতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগে।
ফলে ধাতুটির দাম বেড়ে যদি পাউন্ডপ্রতি ১০ ডলারে পৌঁছে যায়, তবে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদায় সাড়া দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ইন্টারন্যশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি) জানায়, বৈশ্বিক তামা উৎপাদন তিন বছরে ধরেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
যদিও এ বছর উৎপাদন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে।
এছাড়া গত বছর বৈশ্বিক পরিশোধিত তামার ঘাটতি ছিল ৬ লাখ টন।
বড় আকারের এ ঘাটতির কারণে চলতি বছর ধাতুটির উদ্বৃত্ত থাকবে মাত্র ৮০ হাজার টন।
পণ্যবাজার প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ম্যারেক্সের বাজার বিশ্লেষক গে ওলফ বলেন, তামার সাপ্লাই চেইনে সংকট কাঁচামাল সরবরাহ খাতকেও প্রভাবিত করেছে।
ফলে শিল্প ধাতুটির দাম বাড়লেও পরিশোধনকারীরা লক্ষণীয় মাত্রায় মুনাফার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
ফাইন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি কভিড-পরবর্তী উত্তরণের পথে হাঁটছে।
মূলত এ কারণেই তামার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ বেড়েছিল।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও যানবাহনের প্রতি মনোযোগ বাড়াচ্ছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো।
ফলে তামানির্ভরতা ক্রমাগত বাড়ছে।
এ খাতে ব্যয়ও বাড়াচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার।
এ বিষয়ও ধাতুটির দাম বাড়াতে বড় প্রভাব রেখেছে।
২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের টেকসই লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়।
এতে গৃহীত ১৭টি লক্ষ্যের একটি হলো সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
ম্যাথিউ ফাইন বলেন, এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তামার বৈশ্বিক চাহিদা সর্বকালের শীর্ষে পৌঁছবে।
দূষণমুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের এ লক্ষ্যমাত্রা তামার মূল্যবৃদ্ধির ধারাকে বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি করে তুলছে।
ফলে গত মাসে শিল্প ধাতুটির দাম ইতিহাসের শীর্ষে উঠে আসাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন ফাইন।
১১ মে প্রতি পাউন্ড তামার দাম ৪ ডলার ৭৬ সেন্টে দাঁড়ায়।
তবে চলতি মাসে মূল্যবৃদ্ধির এ ধারায় কিছুটা টান পড়েছিল।
এ সময় শিল্প ধাতুটির দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়।
তবে এখনো মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাজার বিশ্লেষকরা।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের বাজার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক নিক জনসন বলেন, ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লাগাম টানতে চীন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।










