বর্তমানে সারা বিশ্বে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলো প্রযুক্তি খাতের দখলে। তবে শিশুদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন অভিভাবকরা। তাদের উচিত সন্তানদের চিকিৎসা খাতে ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করা। আগামীর পৃথিবীতে এ ধরনের ক্যারিয়ারই অধিকতর নিরাপদ হবে বলে ব্লুমবার্গের এক জরিপে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ৬৭৮ জনের ওপর জরিপ চালায় নিউইয়র্কভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান। জরিপে অংশ নেয়া ৪০ শতাংশ এ মত দিয়েছেন। তারা জানান, বর্তমানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য খাতের চাকরিই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে এ খাতে চাকরি হারানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখল নেয়া বেশ কঠিন। ডাক্তার অথবা নার্স হওয়া তরুণ প্রজন্মের জন্য অধিকতর বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। জরিপে তা উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা ব্যাপক আকারে বাড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।
তবে বিনিয়োগকারীরা ভিন্ন কথা বলেছেন। তাদের মতে, হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি খাতের ক্যারিয়ার গঠন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। মেটা প্লাটফর্মস, অ্যামাজন ডটকম ও অ্যালফাবেটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তথাপি এ ধরনের চাকরিগুলোকেই অধিকতর সুবিধাজনক বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। দিনে দিনে পৃথিবী ডিজিটাল প্লাটফর্ম দ্বারা আরো বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ খাতের চাকরিগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তা কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চাকরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তারা জানান।
এ প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিস্টমাস ইনকরপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু চ্যালেঞ্জার বলেন, ‘দুই অথবা তিন দশক ধরে সবচেয়ে বেশি বেতনের চাকরিগুলো ছিল আর্থিক খাতে। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের চাকরিগুলো তাদের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে। বেতন ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে এ দুই খাতের চাকরিগুলো প্রায় সমান।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের চাকরিগুলো ২০ বা ৩০ বছর পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৫৬ জন পেশাদার বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৫২ শতাংশ প্রযুক্তি খাতের চাকরির পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর ১২২ জন খুচরা বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৪৮ শতাংশ প্রযুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ১২ শতাংশ আর্থিক খাতের চাকরিগুলোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমানের শিশুদের জন্য ভবিষ্যতে আর্থিক খাতের চাকরিগুলো অধিকতর সুবিধাজনক হবে।
কেউ কেউ কারিগরি প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। কার্পেন্টার, প্লাম্বার কিংবা ইলেকট্রিশিয়ান হওয়া সব সময়ের জন্য সুবিধাজনক বলে তারা মনে করেন।










