চলতি বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের সয়াবিন আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। মূলত দুর্বল চাহিদা ও সীমিত রফতানির কারণে এ সময় আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। চীনের শুল্ক বিভাগ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এক প্রতিবেদনে জানায়, অক্টোবরে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩১ টন সয়াবিন ক্রয় করে। গত বছরের একই সময় ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৩৪ লাখ টন। সে হিসাবে আমদানি ৭৭ শতাংশ কমেছে।
স্বভাবত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি বেড়ে যায়। কারণ এ সময় দেশটিতে সয়াবিন সংগ্রহ শুরু হয়। আমেরিকান বিনই বাজারে আধিপত্য করে।
তবে চীনের বাজারে পণ্যটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ওই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ক্রয়াদেশ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে দামের দিক থেকে সুবিধা না পাওয়াকেও আমদানি কমার পেছনে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনে সয়াবিন মাড়াই কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ পশুখাদ্য হিসেবে পণ্যটির চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রাজিলের সয়াবিনের দাম কম। এসব কারণে চীনের মাড়াইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় আমেরিকান সয়াবিনের প্রতি আগ্রহ কমছে।
তথ্য বলছে, গত বছরের শেষ দিকে সোয়াইন ফ্লুর ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় চীনের শূকর পালন খাত। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য সয়াবিন আমদানির উদ্যোগ নেয় মাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এ বছরের মাঝামাঝি দেশটিতে শূকরের মাংসের দাম কমে যাওয়ায় মাড়াইয়ের পরিমাণ কমতে শুরু করে। টানা চার মাস ধরেই কমছে মাড়াই। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে এটি সর্বনিম্নে পৌঁছে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি কমে যায়। লুইজিয়ানা প্রদেশে হারিকেন আইডা আঘাত হানার পর রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে সেখানে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় খাদ্যশস্য টার্মিনালগুলো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধা পেলেও নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ব্রাজিল থেকেও আমদানি কমেছে। চীন অক্টোবরে ব্রাজিল থেকে ৩৩ লাখ টন সয়াবিন ক্রয় করে বলে জানিয়েছে শুল্ক বিভাগ। গত বছরের একই সময় ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৪২ লাখ ৩৩ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি কমেছে ২২ শতাংশ।
অক্টোবরে চীনের মোট সয়াবিন আমদানি এক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ সময় সব মিলিয়ে ৫১ লাখ ১০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরেও সয়াবিন আমদানি নিম্নমুখী থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি আরো কমে আসতে পারে।










