ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০২৩ শেষ করেছে শ্রীলংকার চা শিল্প। বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি। বেড়েছে সারের স্থানীয় সরবরাহ। ফলে উৎপাদন নিয়ে স্বস্তিতে ছিলেন বাগান মালিকরা। যদিও ক্ষুদ্র বাগানগুলো এখনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। এদিকে উৎপাদন বাড়লেও পণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় কমেছে। শ্রীলংকার চা বোর্ডের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণে এমনটা জানা গেছে।

চা বোর্ডের তথ্যানুসারে, গত বছর শ্রীলংকায় চা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে। তবে ওই বছর রফতানি ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২৪ কোটি ১৯ লাখ কেজিতে নেমে যায়।

উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে মাঝারি বাগানগুলো। এসব বাগান থেকে উৎপাদন এক বছরের ব্যবধানে ২৬ লাখ কেজি বেড়ে ৪ কোটি ২৩ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে বড় বাগানগুলোর উৎপাদন বেড়েছে ১৬ লাখ কেজি। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ কেজিতে। 

তবে ক্ষুদ্র বাগানগুলোয় উৎপাদন প্রায় ১০০ কেজি কমে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার কেজিতে নেমেছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও সারের উচ্চমূল্যের কারণে এ বাগান মালিকরা বছরজুড়ে ছিলেন চ্যালেঞ্জের মুখে।

চা বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে শ্রীলংকা সব মিলিয়ে ২৪ কোটি ১৯ লাখ কেজি চা রফতানি করে। আগের বছরের তুলনায় যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে অর্থমূল্যের দিক থেকে রফতানি বেড়েছে। এ সময় দেশটি ১৩১ কোটি ডলারের চা রফতানি করে। আগের বছর যা ছিল ১২৬ ডলার। 

২০২৩ সালে শ্রীলংকান চায়ের গড় রফতানি মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ৫ ডলার ৪১ সেন্ট, আগের বছর যা ছিল ৫ ডলার ৩ সেন্ট। বছরের শেষ ভাগে রুপি ও ডলারে চায়ের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমে যায়। 

শ্রীলংকা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চা উৎপাদক। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে বড় ভূমিকা রয়েছে পণ্যটির। শ্রীলংকার গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকারের সময় দেশটিতে সার ও কৃষি রাসায়নিক আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রিজার্ভ সংকট নিরসন ও অর্গানিক কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির কৃষি খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। বিশেষ করে প্রধান অর্থকরী পণ্য চা উৎপাদন তলানিতে নামে। ২০২২ সালেও উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী।

২০২০ সালের কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও দেশটি চা উৎপাদনের পরিমাণ অনেকটাই ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ওই সময় মোট ২০ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে শ্রীলংকা। কিন্তু ২০২১ সালের পর থেকে দেশটিতে চা উৎপাদন ক্রমেই কমেছে। ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক বিপর্যয় খুব শক্ত হাতে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে শ্রীলংকা। নিয়ন্ত্রণে এসেছে মূল্যস্ফীতিও। সার সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। ফলে উৎপাদন নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। 

শ্রীলংকার চা শিল্পের ১৫০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সিলন চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর শ্রীলংকায় ৩০ কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন হয়, যা বৈশ্বিক চা উৎপাদনের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চা রফতানি থেকে দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৬০ কোটি ডলার আয় করে। তবে বেশ কয়েক বছরে উৎপাদন ও রফতানি আয়ের এ ধারা থেকে ছিটকে পড়ে দেশটির চা শিল্প।